রাজপথ থেকে শিগগিরই সরছে না বর্জ্যের কন্টেইনার। বছরের পর বছর সড়কের ওপর অবস্থান করে যেভাবে নাগরিক বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে আসছে, অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেভাবেই থাকছে কন্টেইনারগুলো। মামলা ও জমি সংকটসহ নানা জটিলতায় পরিকল্পনা অনুযায়ী বর্জ্য রাখার জন্য সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মিত না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকার প্রধান সড়কে প্রায় এক যুগ ধরে বর্জ্যের কন্টেইনার রাখা হয়। বাজারসহ আশপাশের এলাকার বর্জ্য এনে ফেলা হয় এই কন্টেইনারে। সব বর্জ্য কন্টেইনারের ভেতর ফেলা হয় না বলে সড়কের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে ওসব। সারাক্ষণ দুর্গন্ধ ছড়ায়।
বাজারের কেনাকাটা করতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা রুস্তম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ইতোপূর্বে অনেকেই বলেছেন ফকিরাপুলের কন্টেইনার সরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু ওইসব কথার বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে দুর্গন্ধের মধ্যে দিয়েই আমাদের চলাফেরা করতে হচ্ছে।
শুধু ফকিরাপুলই নয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এমন দৃশ্য বেশ কিছু প্রধান সড়কে প্রতিদিন চোখে পড়ে। মিরপুর রোডের ধানমণ্ডির রাসেল স্কোয়ার, পুরনো ঢাকার বাহাদুরশাহ পার্ক, মিরহাজীর বাগ নতুন সড়ক (আবুহাজী মসজিদের কাছে), মিরপুর চিড়িয়াখানা রোড, সাতমসজিদ রোডের উত্তরাংশ, বাড্ডার প্রগতি সরণীসহ বিভিন্ন এলাকায় এভাবেই কন্টেইনার রেখে বর্জ্য সংগ্রহ করছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।
কন্টেইনারগুলোর কারণে যানবাহন ঠিক মত চলাচল করতে পারছে না। কোথাও কোথাও যানজটেরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এগুলো। রাসেল স্কয়ারের সামনে থাকা কন্টেইনারগুলোর কারণে প্রায় প্রতিদিন যানজট হচ্ছে। কন্টেইনারের বর্জ্য মাঝে মধ্যে ফুটপাতের ওপর চলে যায়। লোকজন নাকে রুমাল চেপে চলাফেরা করে। অ্যাসোসিয়েশন অব বাস কোম্পানিজের সভাপতি খন্দকার রফিকুল হুদা কাজল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সড়কের ওপর কন্টেইনার থাকায় যানবাহন সেখানে গিয়ে আটকে যায়। ফলে কন্টেইনারকে ঘিরে যানজট সৃষ্টির ঘটনা তৈরি হচ্ছে নিয়মিত।
অন্যদিকে কন্টেইনার ছাড়াও কেবল রাস্তার ওপর বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বহু এলাকায়। সকালে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বর্জ্য অপসারণের কিছুক্ষণ পর আবারও একই স্থানে বর্জ্য ফেলে পরিবেশ নোংরা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বেশ কিছু ট্রাকে ঢাকনা ছাড়া বর্জ্য পরিবহন করা হয়। পরিবহনের সময় বর্জ্য আবারও রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) জানিয়েছে, বর্জ্য সংগ্রহের জন্য বর্তমানে নগরীর বিভিন্ন সড়কে ৩৯০টি কন্টেইনার রয়েছে। শিগগিরই আরও প্রায় অর্ধশত কন্টেইনার যুক্ত হবে এগুলোর সঙ্গে। এর ফলে সড়কে কন্টেইনারের উপস্থিতি আরও বাড়লে যানজট পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটতে পারে।
জানা গেছে, প্রধান সড়ক কিংবা অলিগলিতে বর্জ্য না রেখে আধুনিক পদ্ধতিতে নির্ধারিত স্থানে রাখার জন্য অর্ধশতাধিক সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। কিন্তু মামলা ও জমি সংকটের কারণে গত দেড় বছরে এ পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি সিটি করপোরেশন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ১২টি এসটিএসের মধ্যে নির্মাণ করতে পেরেছে মাত্র একটি। ঢাকা উত্তর ৩১টি ওয়ার্ডে ৪৭টি এসটিএস নির্মাণ করলেও বাকি পাঁচটি ওয়ার্ডে জমি না পাওয়ায় কিছু করতে পারেনি। ফলে সড়ক থেকে সরতে পারছে না কন্টেইনারগুলো।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর আবদুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বর্তমানে আমাদের ৩১টি ওয়ার্ডে ৪৭টি এসটিএস রয়েছে। আরও তিনটির কাজ শুরু হচ্ছে। তবে জমি না পাওয়ায় পাঁচটি ওয়ার্ডের জন্য এসটিএস নির্মাণ করা যাচ্ছে না। এ কারণে বাড্ডার সড়ক থেকে কন্টেইনার সরছে না। তিনি বলেন, রাজউক থেকে আমরা জমি চেয়েছি। পেলেই এসটিএস নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
অন্যদিকে ডিএসসিসির উপপ্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খোন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বলেন, এসটিএস নির্মাণে জটিলতা নিরসনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কন্টেইনারগুলো যাতে যান চলাচলে বিঘ্ন না ঘটায় সেদিকেও আমরা সতর্ক রয়েছি।
/এইচকে/








