দ্বিতীয় দিন হলো জামায়াত আমির মকবুলের মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত ও তথ্য অনুসন্ধান

রফিকুল ইসলাম, ফেনী
১০ নভেম্বর ২০১৬, ০০:৩৮আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৬, ০৮:৫৪

দ্বিতীয় দিন হলো জামায়াত আমির মকবুলের মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত ও তথ্য অনুসন্ধান জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির মকবুল আহমাদের একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত ও তথ্য  অনুসন্ধান দ্বিতীয় দিনের মতো করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত  তথ্য ও অনুসন্ধানী দল ফেনী সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি, সাবেক পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন নেতা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ওয়াজ উদ্দিনের পরিবার ও তার সহকর্মীদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ করেন এবং এই  বিষয় তাদের বক্তব্য নেন ও তথ্য সংগ্রহ করেন।

এছাড়া স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে প্রবীন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবং গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন ট্রাইব্যুনালের অনুসন্ধানী দল । 

ট্রাইব্যুনালের সহকারী পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম বাংলাট্রিবিউনকে বলেন , তথ্যের গোপনীয়তাও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা বিষয়টি মাথা রেখে এই বিষয় কোনও বক্তব্য গণমাধ্যমকে এখনই কিছু বলা ঠিক হবে না ।

তিনি বলেন, এই তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার । ভুক্তভোগীসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ এগিয়ে আসা ছাড়া এই কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় ।

এর আগে সোমবার বিকালে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল ফেনী আসেন । ওই দিন সন্ধ্যায় তদন্ত দল স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী  ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জয়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর লালপুর গ্রামের হিন্দুপাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ শহীদ পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য নেন সহকারী পরিচালক মো. নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল।

ফেনী জেলা মুক্তিযুদ্ধা সংসদের কমান্ডার মীর আব্দুল হান্নান ও দাগনভুঞা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার শরিয়ত উল্যাহ বাঙ্গালী  অভিযোগ করেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম চলাকালে জামায়াতের আমীর মকবুল আহমাদের নির্দেশেই ফেনী কলেজের সাবেক ভিপি ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের নেতা মাওলানা ওয়াজ উদ্দিনকে ফেনী থেকে ধরে নিয়ে চট্টগ্রামে অজ্ঞাতস্থানে হত্যা করা হয়। তারপর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ উদ্দিনের লাশের হদিস পায়নি তার স্বজনেরা। শহীদ মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি ফেনী শহরের তাকিয়াবাড়ি।

আরও অভিযোগ করা হয়, দাগনভুঞা উপজেলার লালপুর গ্রামের হিন্দু পাড়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান জানার পর স্থানীয় রাজাকারের মহকুমার শান্তি কমিটি  এই সংবাদ পেয়ে পাকহানাদার বাহিনীর দোসর শান্তি কমিটির প্রধান মকবুল আহমাদের নির্দেশে ওই গ্রামের রাজাকার সাহাব উদ্দিন, বদিউর জামান ও লাতু  মিঞার নেতৃত্বে বর্বর পাকিস্তানী বাহিনীর সদস্যরা আক্রমণ করে। পাড়ার লোকজনের  চোখের সামনে মুক্তিযোদ্ধা আনামিয়াকে গুলি করে হত্যা করে এবং সেখানে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এরপর একের পর এক হাত ও চোঁখ বেধে তুলে ১০ ব্যক্তিকে  গাড়ীতে তুলে নেয় পাকিস্তানী বাহিনী । পরে তাদেরকে একটি গর্তে জীবিত অবস্থায় মাটিচাপা দিয়ে হত্যা করা হয় । একই এলাকার খুশিপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্যাহ, মোমারিজপুর গ্রামের সিদ্দিক মেম্বার, কাশেম, ফাজিলের ঘাটের মফিজ, আজিজ ফাজিলপুরে তিন জন মহিলা, বৈরাগীর হাটে বিরলীর  দুইজন মুক্তিযোদ্ধকে হত্যা করা হয় । 

এই দিকে এই রিপোর্টের সময় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত দল বুধবার রাতে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ শেষে  ফেনী ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

উল্লেখ্য , জামায়াতের আমীর মকবুল আহমাদ স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময় ফেনী মহাকুমার শান্তি কমিটির কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার দায়িত্ব ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষনিক যোগযোগ রক্ষা করা ও তাদের এই দেশীয় দোসর রাজাকার আল-বদর ও আল সামসের সমন্বয় করা। জামায়াতের আমীর মকবুল আহমাদের গ্রামের বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ওমরাবাদ গ্রামে।

/এফএইচএম/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম