নদী রক্ষায় মুখ থুবড়ে পড়েছে ‘জাতীয় টাস্কফোর্স’

শফিকুল ইসলাম
১২ নভেম্বর ২০১৬, ০৮:০০আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৬, ২৩:১২

ঢাকার নদীতে আবর্জনার স্তুপ (ফাইল ফটো) নদীর সীমানা পিলার নিয়ে সৃষ্ট নানামুখী জটিলতার সমাধান না হওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়েছে নদী রক্ষায় গঠিত ‘জাতীয় টাস্কফোর্স’। সমস্যা নিরসনে বার বার উদ্যোগ নিয়েও সমস্যা সমাধান করা যায়নি। কারণ অনেক পিলার নিয়েও আপত্তি করছেন জমির মালিকরা। আদালতে মামলাও করেছেন তারা। ফলে নদীর অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি টাস্কফোর্স।

জানা গেছে, আগামী রবিবার জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠক ডেকেছেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী ও নদী রক্ষায় গঠিত জাতীয টাস্কফোর্সের প্রধান শাজাহান খান।

নদী দূষণ রোধ সম্পর্কে জানতে চাইলে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নদীগুলো দখলমুক্ত করতে সাহসের প্রয়োজন। এজন্যই এই কঠিন কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। আমার বিশ্বাস, নৌ-বাহিনী মাঠে নামলে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে। কারণ দেশের বড় বড় রাঘববোয়ালরাই নদী দখল করে অবকাঠামো গড়েছে। এগুলো উচ্ছেদ করতে সাহস প্রয়োজন। এ সাহস নৌ-বাহিনীর আছে।’

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, নদীর তীর অবৈধ দখলরোধে ঢাকার চারপাশে ৪ হাজার ৬৩ টি এবং নারায়নগঞ্জে শীতলক্ষ্যার তীরে ৫ হাজার ১১ টি ‘সীমানা চিহ্নিতকরণ পিলার’ বসানো হয়। যার বেশির ভাগ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া ভাঙা সম্ভব হয়নি বুড়িগঙ্গা, বালু, শীতলক্ষা ও তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত ১৩টি ব্রিজ, কালভার্ট।

উল্লেখ্য, নদী খাল থেকে অবৈধ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করতে ‘জাতীয় টাস্কফোর্স’ গঠন করে। ২১ সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটির এ টাস্কফোর্সের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পান নৌ-বাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মুহাম্মদ নিজামউদ্দিন আহমেদকে। এ টাস্কফোর্সের প্রধান দায়িত্ব নদীর নাব্যতা ফেরানো এবং স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ অব্যাহত রাখা। আর বিআইডব্লিউটিএকে  দখলকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে নানা জটিলতায় কোনও কাজই করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

তবে দায়িত্ব পাওয়ার পরই নৌ-বাহিনী নদী দূষণমুক্ত করতে তিন স্তরের পরিকল্পনা ও কিছু সুপারিশসহ কর্ম পরিকল্পনা জমা দেয় মন্ত্রণালয়ে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এক বছরব্যাপী স্বলমেয়াদী, তিন বছরব্যাপী মধ্যমেয়াদী ও পাঁচ বছরব্যাপী দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বলা হয়।

এদিকে আদি বুড়িগঙ্গা নদীকে বাঁচাতে কমিটির রিপোর্ট দেওয় হলেও আদালতের নির্দেশনা না পাওয়ায় পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে নদী রক্ষায় নেওয়া কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই শ্যামপুরে একটি ‘ইকোপার্ক’ ও ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়। এছাড়াও কাঁচপুর, টঙ্গি ও আশুলিয়ায় আরও তিনটি ইকোপার্ক ও আরও ৫০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে।

নৌ-মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঢাকার এ চারটি নদীর তলদেশে ১০ ফুটের বেশি পলিথিনসহ নানাধরণের বর্জ্য জমা হয়েছে। আর অবৈধ দখলের কারণে নদী চারটি তার স্বাভাবিক চরিত্র হারিয়েছে। নদীগুলো উদ্ধারে প্রথমে দূষণমুক্ত ও পরে দূষণ ঠেকাতে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে লন্ডনের টেমস নদী সংরক্ষণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

/এসআই/এসএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম