কর্মক্ষেত্রে শ্রমজীবী নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরি করতে ট্রেড ইউনিয়নে শ্রমজীবী নারী নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে বলে মত দিয়েছেন বক্তরা।
বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘উন্নয়ন ভাবনা: নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তগ্রহণে নারীশ্রমিক’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এ মত দেন। কর্মজীবী নারী এবং ফ্রিডরিচ ইবার্ট স্টিফটাং যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের সচিব মিকাইল শিপার বলেন, ‘নারী গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য রেশনের ব্যবস্থা করা হবে। বেসরকারি চাকরিতেও সরকারি চাকরির মতো মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করার চেষ্টা চলছে। তবে এটি সময় সাপেক্ষ বিষয়।’
সেমিনারে কর্মজীবী নারীর সভাপতি ড. প্রতিমা পাল মজুমদার বলেন, ‘নারী শ্রমিকদের জন্য নারীবান্ধব আইন আছে কিন্তু আইনের প্রয়োগ ঠিক মতো নেই। নেতৃত্বে নারীরা না থাকায় মালিকরা নারী এবং পুরুষ শ্রমিকের মধ্যে বৈষম্য করার সুযোগ পাচ্ছে। সঠিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এ প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব।’
সেমিনারে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, ‘রাষ্ট্র নারী এবং পুরুষের মাঝে কিছু বৈষম্য সৃষ্টি করে রেখেছে। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা নির্দিষ্ট কোনও মজুরি কাঠোমো নেই। যে কোনও প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৪০ জন নারী কাজ করলে সেখানে বেবি কর্নার থাকার কথা থাকলেও কোথাও এমন সুযোগ নেই।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন স্যোসাল একটিভিস্ট জীবনানন্দ জয়ন্ত। মূল প্রবন্ধে তিনি শ্রমজীবী নারী , নারী শ্রমিক আন্দালনের সংগঠক , অধিকার কর্মী, শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধীদের অংশগ্রহণে প্লাটফর্ম গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিকের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের যুগ্ন সম্পাদক জাফরুল হাসান, জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক, নইমুল আহসান জুয়েল, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শহীদুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।
/আরএআর/এসএনএইচ/








