মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভিন্ন হবে এবং সেজন্য বাংলাদেশের এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া দরকার।
বাংলাদেশে সফররত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দলের প্রধান বারন্ড লাঙ্গা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সঠিক পথে রয়েছে এবং দ্রুতই তারা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে।
তিনি বলেন, তার প্রতিনিধিদল ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন নিয়ে এদেশে এসেছে এবং তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
বারন্ড লাঙ্গার নেতৃত্বে সাত সদস্যের ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদলটি পাঁচদিনের সফরে ১৪ নভেম্বর ঢাকা এসেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাজারে জিএসপি সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়ে আসছে। কিন্তু বারন্ড লাঙ্গা এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন করে দর কষাকষি করতে হবে। আর সে দর কষাকষি হবে পৃথক জিএসপি প্লাস ব্যবস্থার জন্য।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৮টি স্বল্পোন্নত দেশের একটি এবং সরকারের লক্ষ্য আগামী ২০২১ সাল নাগাদ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া।
বারন্ড লাঙ্গা বলেন, জিএসপি প্লাস ব্যবস্থা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ২৭টি আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুস্বাক্ষর এবং বাস্তবায়ন করতে হবে যার অনেকগুলি বাংলাদেশ করেছে।
তবে এদেশের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকাটা জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ, অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকলেও সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকে সমর্থন করে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে এ ব্যাপারে বারন্ড লাঙ্গার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভবিষ্যতে জিএসপি প্লাস ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা চাইলে মৃত্যুদণ্ড প্রথা বাতিল করা দর কষাকষির একটি বড় বিষয় হবে।
এখন পর্যন্ত ১৪টি উন্নয়নশীল দেশ জিএসপি প্লাস সুবিধার আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়ে থাকে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার এবং সেখানে বাংলাদেশ প্রতিবছর ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রফতানি করে থাকে।
/এসএসজেড/টিএন/








