মুক্তিযুদ্ধের সময় নিহত ৩০ লাখ শহীদের ক্ষতিপূরণ পাকিস্তানের দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। শনিবার (১৯ নভেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চোধুরী সিনেট ভবন অডিটোরিয়ামে এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্র বিজ্ঞান সমিতি ‘বাংলাদেশে সালাফী-জিহাদী সন্ত্রাসবাদ- এ সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে।
ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‘কয়েকদিন আগে পত্রিকায় দেখেছি পাকিস্তান বাংলাদেশের কাছে পাওনা হিসেবে বিরাট অংকের টাকা দাবি করেছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা যে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে সেই ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তারা যে পূর্ব পাকিস্তান থেকে সম্পদ লুটপাট করেছে সেটা তাদের ফেরত দেওয়া উচিত। পাকিস্তানের কাছ থেকে এসব হিসাব বুঝে না নিয়ে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা কতটা যৌক্তিক সেটা ভাবার বিষয়।’
প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেন, ‘সন্ত্রাসী মানে সন্ত্রাসী, মুক্তিকামিরা সন্ত্রাসী নয়। ১৯৭১ সালে আমরা ছিলাম মুক্তিকামী, সন্ত্রাসী না। সাম্প্রাতিক বাংলাদেশে ভিন্ন রকমের সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনের নামে সংহিসতা চালিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সহিংসতার শিকার হচ্ছে আমাদের ভাবতে হবে, সমাধান খুঁজতে হবে।’
রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দিন মোল্যা বলেন, ‘১৯৭২ সালের সংবিধানে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চিত্র ফুটে উঠে। কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা পর সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িকতার শুরু হয়। জোট সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্য জোট প্রকাশ্যে ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়ায়। সম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতায় বাংলাদেশের ধর্ম নিরপেক্ষতা ও উন্নয়ন ব্যাহত হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে জঙ্গিবাদ নির্মূল হয়নি, তাদের কার্যক্রম চলমান আছে।’
এছাড়া, সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. খুরশিদা বেগম সাঈদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. সৈয়দ আশারাফুল রহমান, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি প্রফেসর এমিরেটস ড. আবদুল মোমেন প্রমুখ।
আরও পড়ুন-
দেশে সাড়ে ১০ কোটি মানুষ এখনও দরিদ্র!
/সিএ/এফএস/








