সরকারি কর্মকর্তাদের সেবার মান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার কথা। কিন্তু তারা জনগণের প্রভু হতে বেশি পছন্দ করেন। অনেকেই রক্ষক না হয়ে ভক্ষক হয়েছেন। কেউ কেউ চাকরি পাওয়ার পরই দোকান খুলে বসেছেন। জনগণকে খরিদ্দার মনে করে অর্থের বিনিময়ে সেবা দিতে চান। আর বেতনটাকে চাকরির প্রাপ্তি মনে করেন। এ অবস্থার জন্য সরকারি পদ্ধতি দায়ী। সরকারি কার্যক্রমের পদ্ধতি পরিবর্তন জরুরি। মঙ্গলবার দুপুরে ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘ব্যাংক থেকে শুধু বিশ্বাসের ওপর সহায়ক জামানত না রেখেই ঋণ দেওয়া হলো অথবা নেওয়া হলো। তারপর যথারীতি যে উদ্দেশ্যে ঋণ নেওয়া হলো তা না করে অন্য নামে গাড়ি-বাড়ি তৈরি করা হলো। ঋণটি কু-ঋণে পরিণত হলো। অর্থঋণ আদালতে মামলা হলো। একসময় ব্যাংকের ব্যালেন্সশিট থেকেও ওই ঋণ উধাও হয়ে গেল। আদালতে মামলা চলতে থাকলো। একসময় ঋণটি অবলোপন করা হলো। এ প্রক্রিয়া কি দুর্নীতি নয়? নীতিবহির্ভূত ও বিবেক বিবর্জিত প্রতিটি কাজই দুর্নীতি।’
ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দেশে বিদ্যালয় ভবন আছে, ওই ভবনে শ্রেণিকক্ষ আছে। সামনে খেলার মাঠ আছে। শিক্ষা উপকরণ আছে, শিক্ষক আছেন, ছাত্র-ছাত্রী আছে কিন্তু শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা আছে কি? সে প্রশ্ন অনেকের মতো আমার মনেও জেগেছে। অনেকেই বলেন শিক্ষা নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন জ্ঞানসমৃদ্ধ ও মূল্যবোধ সম্পন্ন মানবসম্পদের। তাই দুর্নীতি দমন কমিশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৮৫ লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আমাদের দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে কী হচ্ছে, তা আমাদের বলতে হবে। কারণ এ সব প্রতিষ্ঠানই জনসম্পদ তৈরির কারখানা।
/আরজে/এমএনএইচ/








