নিম্ন আদালতের বিচারকদের জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রস্তাবিত আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধির খসড়া গেজেট নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। বিচারকদের আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধির খসড়া গেজেট করার প্রয়োজন নেই আইন মন্ত্রণালয়ের এমন পরিপত্রের দেওয়ার পর দিন সোমবার প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল পরিপত্র বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করলে তিনি এ মন্তব্য করেন। এছাড়া তিনি ১৫ জানুয়ারির মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে বলেছেন। এ সময় আদালতে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক এবং মোহাম্মদ শহিদুল হক উপস্থিত ছিলেন। বেধে দেওয়া সময়ে গেজেট না করায় সোমবার তাদের আদালতে উপস্থিত থাকার মৌখিক নির্দেশ ছিল।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আট সদস্যর আপিলের বেঞ্চকে পরিপত্র বিষয়ে অবহিত করলে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে ভুল বুঝানো হয়েছে। এটা সরকারের তৈরি করে দেওয়া বিধির খসড়া। আমরা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর কিছু সংশোধন করে গেজেট করতে বলেছিলাম। এটা তো এমন হওয়ার কথা না।’
মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে রায় দেন সুপ্রিম কোর্ট। ওই মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে যায় বিচার বিভাগ। ওই সময় নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির একটি খসড়া মন্ত্রণালয় থেকে আদালতে দাখিল করা হয়। খসড়াটির সঙ্গে ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু মিল থাকায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী রায় দেন আপিল বিভাগ। ওই রায় ঘোষণা করা হয় চলতি বছরের ২৮ আগাস্ট। রায় ঘোষণার পর ওই খসড়া সংশোধন করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে ৬ নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে জমা দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু ৬ নভেম্বর মামলাটি শুনানির তারিখে আদালতকে কোনও অগ্রগতি জানাতে পারেননি অ্যাটর্নি জেনারেল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশিত বিধিমালা চূড়ান্তের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা লিখিতভাবে জানানোর জন্য রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।
গত ৭ নভেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেল সময় চাইলে ২৪ নভেম্বরের মধ্যে বিধিমালা চূড়ান্ত করে তা গেজেট আকারে জারি করে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট। ওই তারিখেও সরকার বিধিমালা জমা না দিয়ে আরও দুই দফা সময় নেয়। সবশেষে বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) দুই সচিবকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য আপিল বিভাগ নির্দেশ দিলে তিনদিন পর রবিবার পরিপত্র জারি করে সরকার। এতে বলা হয়, অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রস্তাবিত আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধির খসড়া গেজেট আকারে প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই।
রবিবার সন্ধ্যায় নিম্ন আদালতের বিচারকদের জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রস্তাবিত আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধির খসড়া গেজেট আকারে প্রকাশের প্রয়োজন নেই বলে এক পরিপত্রে জানানো হয়।
/ইউআই/এসটি/








