বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকনোমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)কে গতিশীল করতে ১৬টি বিষয়ে কাজ করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনৈতিক নেতারা। ভারতের গোয়াতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ শীর্ষ সম্মেলনে এসব বিষয়ে একমত পোষণ করেন তারা। গত ১৫-১৬ অক্টোবরে ওই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ওই আউটরিচ শীর্ষ সম্মেলনে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোতে বাণিজ্য, ট্রানজিট, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, কোস্টাল শিপিং চুক্তি, জ্বালানি ও প্রযুক্তি হস্তান্তর, টেকনিক্যাল ও অবকাঠামো সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ দমন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কাস্টমস ব্যবস্থার সমন্বয় সাধন, কৃষি সহযোগিতা, বিখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে বিমসটেক গ্রুপ গঠন, ২০৩০ বিমসটেক এজেন্ডা প্রণয়ন এবং বিমসটেক কানেক্টিভিটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা বিষয়ে মতৈক্য হয়।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কয়েকটি ক্ষেত্রে আলোচনা অনেকদূর এগিয়ে রয়েছে এবং আরও কিছু বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে।
তিনি মনে করেন, সাতটি দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা একমত হয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটাই এখন বিমসটেককে বেগবান করার গাইডলাইনস।
বাংলাদেশ বাণিজ্য, কোস্টাল শিপিং চুক্তি, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করছে তবে অন্যান্য বিষয়ে তাদের মতামত দিচ্ছে বলে তিনি জানান।
বিমসটেককে গতিশীল করার কারণে সার্ক থেকে বাংলাদেশ মুখ ফিরিয়ে নেবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নই উঠে না। সার্কের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিষ্কার নির্দেশনা আছে এবং আমরা এর বাইরে যেতে পারি না।’
পাকিস্তানে এ বছরে নভেম্বরে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশ, ভারতসহ কয়েকটি দেশ সম্মেলনে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর ফলে এ শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায়।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে সার্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির ভেতরে অবশ্যই একটা যৌথ উদ্যোগ থাকা উচিত এবং এ কারণেই এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্যে সার্কের অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, এ মুহুর্তে সদস্য দেশগুলি সার্ককে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অবস্থায় নেই এবং সেজন্য বাংলাদেশ তার সীমিত ক্ষমতায় এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
সার্কের দুইটি আঞ্চলিক সংস্থার প্রধান দফতর ঢাকায় এবং আমরা এ দুটির মাধ্যমে কিছু কাজ করার চেষ্টা করছি।
এ সংস্থা দুটি হচ্ছে সার্ক কৃষি সংস্থা এবং সার্ক পণ্য মানদণ্ড নিরূপন সংস্থা।
তিনি জানান, সার্ক কৃষি সংস্থার অধীনে গবেষণাসহ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যা পরবর্তীতে সদস্য দেশগুলির উপকারে আসবে।
আবার সার্ক পণ্য মানদণ্ড নিরূপন সংস্থা এরমধ্যে ছয়টির বেশি পণ্যের মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে এবং তাদের সনদ পাওয়া পণ্য কোনও দেশে পরীক্ষার প্রয়োজন হবে না।
জানুয়ারি মাসে তারা সদস্য দেশগুলোকে নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা করছে যেখানে আরও কিছু পণ্য নিয়ে আলোচনা হবে।
তিনি বলেন, সার্ক একটি পুরোনো সংস্থা এবং এর গভীরতা অনেক বেশি। সদস্য দেশগুলির মধ্যে সম্পর্কের উত্থান-পতন থাকবে এবং এর মধ্যে সার্ককে কাজ করতে হবে।
/এসএসজেড/টিএন/








