নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে কাজ না করার অভিযোগ ওঠায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে। কেন্দ্রে ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে এ বিষয়ে নিয়মিতভাবে নালিশ যাওয়ায় ফুঁসে উঠেছেন তারা। শুক্রবার রাতে শহরের মাসদাইরে এ বিষয়ে আয়োজিত এক সভায় স্থানীয় তিন সাবেক সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে বলেন, এখন এ ধরনের অভিযোগ তুলে আমাদের বিব্রত করাটা দুঃখজনক। আমরা নির্বাচনে আছি, থাকবো। শনিবার থেকে আরও জোরেসোরে প্রচারণা চলবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের বাসায় ওই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানও উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, সভায় স্থানীয় নেতারা তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে একের পর এক অভিযোগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা বলেছেন, এ নির্বাচনে আমাদেরও অর্জন ও ব্যর্থতা রয়েছে। নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে যেখানে দিনরাত পরিশ্রম করছি সেখান কেন্দ্রে বার বার আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও অভিযোগ তুলে বিব্রতকর পরিস্থিতে ফেলাটা খুবই দুঃখজনক। তবে সবকিছুর পরেও শনিবার ১৭ ডিসেম্বর থেকে নারায়ণগঞ্জে ধানের শীষের পক্ষে আওয়াজ তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নেতারা।
সভায় গিয়াসউদ্দিন বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকার ১০টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন কেন্দ্রীয় নেতারা এসে গণসংযোগ করছে যা রীতিমত মিছিলে পরিণত হচ্ছে। আমরা যখন অক্লান্ত পরিশ্রম করছি তখন আমাদের কিছু নেতা বিভেদ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বিচার দিচ্ছে, নালিশ দিচ্ছে। অভিযোগ জানাচ্ছে, আমরা নাকি কাজ করি না। কিন্তু, এখন অভিযোগ দেওয়ার সময় না। এখন ফসল ঘরে তোলার সময়। সুতরাং এসব অভিযোগে আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।
সাবেক এমপি আবুল কালাম বলেন, আমাদের কাজ চলছে। কেন্দ্রীয় নেতারাও নিয়মিত মনিটরিং করছে।
তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, আমরা প্রতিদিন কাজ করছি। কিন্তু তার পরেও গণমাধ্যমে খবর আসে তৈমূর, কালাম, গিয়াস এরা কাজ করছে না, যা দুঃখজনক। অথচ এর প্রতিবাদও করা হচ্ছে না। শনিবার থেকে নারায়ণগঞ্জে প্রচারণা আরও জমজমাট হবে। আরো বেশি করে আওয়াজ হবে। আমাকে যে কোন ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের দায়িত্ব দিলে জীবন থাকতে ওই কেন্দ্রে জাল ভোট দিতে দেবো না।
কেন্দ্রীয় নেতারা যে কোনও বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে স্থানীয় নেতাদের নির্দেশনা দেন।
ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নাসিক নির্বাচনে সমন্বয়ক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় নেতা মীর নাছিরউদ্দিন, মিজানুর রহমান মিনু, খায়রুল কবির খোকন, কামরুজ্জামান রতন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সেক্রেটারি কাজী মনিরুজ্জামান, সহ সভাপতি শাহআলম, সাবেক এমপি আবুল কালাম ও গিয়াসউদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জাহিদ হাসান রোজেল, যুগ্ম আহবায়ক আকরাম প্রধান, জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, যুগ্ম আহবায়ক মশিউর রহমান রনি, মহানগরের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, যুগ্ম আহবায়ক রাশিদুর রহমান রশো, শাহেদ আহমেদ প্রমুখ।
/টিএন/








