দিন দিন দেশে এভিয়েশন খাতের পরিধি বাড়ছে। এ খাতে বিনিয়োগেও আগ্রহ দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা। তবে জ্বালানী তেলের অধিক মূল্য, শুল্ক, বিমানের যন্ত্রাংশ আমদানিতে জটিলতা এ খাতের প্রতিবন্ধকতা। এছাড়া, দেশের বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সিভিল এভিয়েশনের আরও বেশি ব্যবসাবান্ধব হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন এ খাতের সংশ্লিষ্টরা। সংকট কাটিয়ে দেশের এভিয়েশন খাতকে এগিয়ে নিতে হলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘দেশীয় এয়ারলাইন্সের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভবনা’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে বক্তার এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব ফায়জুর রহমান, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বিডি লিমিটেডের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) সাহাবুদ্দিন আহমেদ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক কাজী ইকবাল করিম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
বৈঠকে নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, ‘জ্বালানী তেলের মূল্যে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। উড়োজাহাজের যন্ত্রাশং আমদানির ক্ষেত্রেও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়তে হয়। দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্স ও রাষ্ট্রায়ত্ত বিমানের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা রয়েছে। এই অসম প্রতিযোগিতা রোধ করতে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করতে হবে।’
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ বলেন, ‘আমরা বর্তমানে অবকাঠামোগত সমস্যায় পড়ছি। গত ৪০ বছরে যাত্রী বাড়লে বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়েনি।’
বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিনে ২৬৬টি ফ্লাইট অপারেট হয় বলে বৈঠকে জানান বিমানবন্দরের পরিচালক কাজী ইকবাল করিম। তিনি বলেন, ‘তিন বছরে আগে অভ্যন্তরীণ যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার, যা এখন ৬০ হাজারে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে ২৭টি বিদেশি ও ৪টি দেশি এয়ারলাইন্স কাজ করছে।’
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমি মন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশ বিমানকে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চালু করতে বললে তারা রাজি হয়নি। তারা (বিমান) বলেছে, অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট লস প্রজেক্ট হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইটের সংখ্যাও অনেক।’ পর্যটনের স্বার্থে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্ধ এয়ারপোর্টগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিভিন্ন সমস্যা প্রসঙ্গে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানী তেলের মূল্য সমন্বয় করা জরুরি। আমাদের ব্যুরোক্রেসি প্রসেস অনেক লম্বা। এটা দূর করতে হবে। এভিয়েশন খাতে প্রশিক্ষণের অভাব আছে। আমরা প্রশিক্ষণের জন্য ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে পারিনি। এসব সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়। তবে আমরা এসব সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’
ছবি: নাসিরুল ইসলাম
/সিএ/টিআর/








