বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সিভিল এভিয়েশন অথিরিটির সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে ২৩তম বৈঠক স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অসন্তোষ প্রকাশ করে সেবার মান বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
বৈঠকে ‘বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিল, ২০১৬’ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কিছু সংশোধন করে জাতীয় সংসদে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় বিমানের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কেও জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। এছাড়া চট্টগ্রামের শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের রানওয়ে, কার্গো ভিলেজ, বোর্ডিং ব্রিজ এবং রাডার কার্যক্রমসহ এই সব কাজের সার্বিক বিষয়ে কমিটির পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা করার সুপারিশ করা হয়।
সূত্র জানায়, বিমানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠন করা হবে। বিমান বন্দরের নিম্নমানের সেবা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে সংসদীয় কমিটি। বিশেষ করে সম্প্রতি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিমানের জরুরি অবতরণে পর দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া, বিমানের ম্যাইন্টেন্যাসের মান বাড়াতেও বলা হয়। বিমানবন্দরে যাত্রী পরিবহনের জন্য বিমানের গাড়ির মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশসহ নতুন গাড়ি কেনার সুপারিশ করা হয়।
জানতে চাইলে কমিটির সদস্য কামরুল আশরাফ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিমানের কী পরিমাণ দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিমানের সেবার মান নিয়ে সংসদীয় কমিটি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। যাত্রীদের বিমানবন্দর থেকে রানওয়েতে নেওয়ার জন্য যে বাস ব্যবহার করা হয়, তা অত্যন্ত নিম্ন মানের, এমন বাস এখন গ্রাম গঞ্জেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এসব বাস বদলাতে করতে বলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বিমানের একটি উড়োজাহাজ জরুরি অবতরণের কারণে বিমানবন্দর দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল। এই নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ দিন ধরে বিমানের উন্নয়নের জন্য বলছেন, তবু কোনও উন্নতি হচ্ছে না। সংসদীয় কমিটি আপ্রাণ চেষ্টা করছে পরিবর্তনের জন্য।’
সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সকে ঢেলে সাজানো হবে। এবার দরকার হলে কিছুটা খড়গহস্ত হতে হলে, তাও হতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে কামরুল আশরাফ খান বলেন, বিমানের পুনর্গঠনের কথা মন্ত্রী বলতে পারেন। কিন্তু বিগত দিনে বিমানের যে ইতিহাস, আজ পর্যন্ত টাইলস পরিবর্তন ছাড়া, আর কোনও পরিবর্তন কি হয়েছে? সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশ আসতে যত সময় লাগে, এয়ারপোর্টে লাগেজ পেতেও সেই সময় লাগে। প্রতি বৈঠকে আমরা এ বিষয় নিয়ে কথা বলি। ’
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ, তানভীর ইমাম, মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, রওশন আরা মান্নান ও সাবিহা নাহার প্রমুখ।
/সিএ/এমএনএইচ/








