অতিথি পাখি নিধন বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার

এস এম আব্বাস
০৭ জানুয়ারি ২০১৭, ০১:৫৫আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৭, ০১:৫৫

অতিথি পাখি অতিথি পাখি নিধন বন্ধে আইন থাকলেও মানছেন না কেউ। প্রতিবছর শীত আসলেও চলে অতিথি পাখি নিধন। তাই এবার অনেকটা ঘটা করেই পাখি নিধন বন্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

২০১২ সালের বন্যপ্রাণি (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক লাখ টাকা জরিমানা, এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড। একই অপরাধ আবার করলে শাস্তি ও জরিমানা দ্বিগুণ।

আইনে এসব শাস্তির উল্লেখ থাকলেও প্রয়োগকারী সংস্থার ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই চলে পাখি নিধন। উদাসীন বন বিভাগের নজরে আসেনা পাখি নিধনের কোনও ঘটনা। হাতেনাতে ধরা না পড়লে পুলিশও এর দায় নেয় না। এমনকি পাখি নিধনের প্রতিবাদ করলে তাকেও হেও করা হয়। এমতাবস্থায় শীতের শুরুতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অতিথি পাখি নিধন বন্ধ করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অতিথি পাখি নিধন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকরা পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে পাখি নিধন বন্ধে পদক্ষেপ নেবে। এতে সহায়তা করবে বন বিভাগ। জেলা প্রশাসকরা স্থানীয় জনগণকে সচেতন করবে পাখিনিধন বন্ধ করতে।

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা পাখি নিধন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছি।’

ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাং সেলিম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশ পাওয়ার আগে থেকেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা জেনেছি কিছু কিছু চরে পাখি নিধন হচ্ছে। এখনও হাতেনাতে কেউ ধরা পড়েনি। বনবিভাগকে বলেছি এ ব্যপারে সচেতন হতে। পুলিশ, কোস্টগার্ডকে মনিটরিং করতে বলা হয়েছে। এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বরসহ স্থানীয় জনগণের সহায়তা নিচ্ছি।’

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একজন ম্যাজিস্ট্রেট, ২৪ জন আনসার এবং ১০ জন পুলিশ রাতদিন পাহারায় থাকে। বিগত সময়ে একজনকে আমরা হাতেনাতে ধরে একলাখ টাকা জরিমানা করেছি। এরপর থেকে আর কাউকে পায়নি।’

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয়দের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাক ইউনিয়নের গঙ্গাধরপুর অতিথি পাখির অভয়াশ্রম রয়েছে। শীত আসলেই এখানে বিভিন্ন ধরণের পাখির দেখা মেলে। 

এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে অতিথি পাখি আশ্রয় নেয়। প্রতি বছর শীত আসলেই শীত আসলেই দেখা মেলে অতিথি পাখিদের। আর শীত শেষ হলেই আবার ফিরে যায়। প্রতিবছর এসব পাখিরা আসে সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন শীতপ্রধান দেশ থেকে।

বিদেশ থেকে আসা নানা ধরণের পাখি এসে আশ্রয় নেয় সুনামগঞ্জসহ হাওর এলাকায়। এমনকি খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার বিল অঞ্চলেও অতিথি পাখির দেখা মেলে।

/এসএমএ/এসএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম