নারীর ক্ষমতায়ন নীতি বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ

এস এম আববাস
০৮ জানুয়ারি ২০১৭, ২৩:০৩আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৭, ২৩:০৫

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে সরকার। নারী ক্ষমতায়ন ও নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য নিরসনে ২০১১ সালের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় সভা এবং জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় নিয়মিত এজেন্ডা হিসেবে সূচিভুক্ত থাকবে নারী ক্ষমতায়ন ও নীতিমালা বাস্তবায়ন।
১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সিডো সনদ (নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ) গৃহীত হয়। এতে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে সনদটি অনুমোদন করে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ২০১১ সালে নারী উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করে। এটি বাস্তবায়নে ২০১৩ সালে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে সরকার। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বেশ কিছু পদক্ষেপ নিলেও পুরো নীতি বাস্তবায়ন হয়নি। যদিও সরকারের পলিসি হিসেবে নারী ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ নারীবাদী সংগঠনগুলোর দাবি নারী উন্নয়ন নীতি পুরোপুরি বাস্তবায়নে করতে হবে। নারী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় দেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে। নারী ও শিশু খুনের মতো ঘটনা ঘটছে প্রকাশ্যে।
এ কারণে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতাসহ দেশে খুন-নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার স্থায়ীভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে কাজে লাগাতে এ উদ্যোগ নিয়েছে। লক্ষ্য বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি এমন নির্দেশ দেওয়া হয় জেলা প্রশাসকদের (ডিসি)। বিভাগীয় কমিশনাররা সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে স্থানীয়ভাবে মনিটরিং করবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোহাম্মদ শফিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিভাগীয় ও জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় যত স্থায়ী এজেন্ডা থাকে, তার সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন/নারীর উন্নয়ন নীতি-২০১১ যুক্ত হবে। নারীর ক্ষমতায়নে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নে নিয়মিত পদক্ষেপ থাকবে।’
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগে থেকেই নারী উন্নয়ন নিয়ে সমন্বয় সভায় আলোচনা করা হতো।’ এজেন্ডাভুক্ত হওয়ায় বেশি গুরুত্ব পাবে। অন্য বিভাগীয় কমিশনারাও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন সমন্বয় সভার মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা রোধ করতে হলে নারীর ক্ষমতায়ন প্রয়োজন। সে কারণেই বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। গত ২৮ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় সমন্বয় সভায় বিভাগ ও জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় এজেন্ডাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল একটি সংস্থার তথ্য তুলে ধরে এক অনুষ্ঠানে জানান, দেশে গত ১১ মাসে (২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬৭১ জন নারী। ধর্ষণের ঘটনায় মারা গেছেন ৩২ জন। আর ৫৯ জন এর হাত থেকে কোনও রকমে নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর এ সময়ের মধ্যে শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে ৪২২টি। শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৯৮৫টি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দেওয়া বিভাগীয় কমিশনারদের তথ্য থেকে জানা গেছে, গত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রতি মাসেই দেশে অপরাধ বেড়েছে। দেশে এই অপরাধ প্রবণতা বাড়ার ঘটনায় গত ২৭ নভেম্বর বিভাগীয় সমম্বয় সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তবে দীর্ঘদিনেও নীতিমালা পুরো বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি জানিয়েছিলেন, নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ পুরো বাস্তবায়ন করা হবে।
মেহের আফরোজ চুমকি ওই সময়ে জানিয়েছিলেন, নারীদের ক্ষমতায়ন বেশি হলেই নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা কমে যাবে।
/এসএমএ/এমপি/আপ-টিআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম