রোহিঙ্গা পরিস্থিতি বিষয়ে তথ্য জানতে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল এখন ঢাকায়। প্রতিনিধি দলটি এ বিষয়ে নিবিড়ভাবে তথ্য সংগ্রহ করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিনিধিদলটি গত ১১ জানুয়ারি এসে সেদিন থেকেই কাজ শুরু করেছে। আগামী ২০ অথবা ২২ জানুয়ারি তারা কক্সবাজারে গিয়ে সরেজমিন পরিস্থিতি দেখবে এবং এবিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পুলিশ ক্যাম্পে দুর্বৃত্তদের হামলার সূত্র ধরে সেখানে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে হামলা, ধর্ষণ, লুটপাট এবং শতাধিক হত্যার ঘটনা ঘটে। এর ফলে প্রাণ বাঁচাতে কঠোর নিরাপত্তা সত্ত্বেও কমপক্ষে ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিদল স্বাধীনভাবে তাদের তথ্য অনুসন্ধান করছে এবং এর সঙ্গে সরকারের কোনও সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি তারা তাদের নিজেদের খরচে বাসস্থানও খাদ্যের ব্যবস্থা করছে।
এ বিষয়ে তারা কোনও প্রতিবেদন দেবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের দলটি এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেনি।
জানা গেছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক স্পেশাল র্যা পোর্টিয়ার ইয়াংহি লি রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের বিষয়ে তদন্তের জন্য মিয়ানমার অবস্থান করছেন।
উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে গত তিনমাসে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনা না করলেও আন্তর্জাতিক চাপের কারণে গত সপ্তাহে মিয়ানমার একজন বিশেষ দূতকে পাঠায়। মিয়ানমার নতুনভাবে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইলে বাংলাদেশ তাদেরকে শরণার্থী শিবিরের সব রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে বলে। একই সঙ্গে দেশটির সরকারকে মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারকে সাবেক সামরিক সরকারের মতো আচরণ না করার জন্যও আহবান জানানো হয়।
এছাড়া ৯ অক্টোবরে তাদের সীমান্ত এলাকার পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় বাংলাদেশকে জড়িত করার তীব্র প্রতিবাদও জানানো হয়।
এসময় জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি হাও ডো সোয়ান এর একটি চিঠি তাদের বিশেষ দূতকে দেখানো হয়, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে ওই ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ জড়িত এমন অসত্য উদ্দেশ্যমূলক খবর প্রচার করা হচ্ছিল। ওই চিঠি দেখে মিয়ানমারের বিশেষ দূত ভড়কে যান। তাকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য অন্য দেশে সরবরাহ না করার জন্য।
আরও পড়ুন-
৬৫ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার মিয়ানমারের প্রস্তাবে রাজি নয় ঢাকা
মিয়ানমারকে সামরিক সরকারের মতো আচরণ না করার আহ্বান
/এসএসজেড/টিএন/








