‘৬৯ না এলে আমি তোফায়েল আহমেদ হতে পারতাম না’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৫ জানুয়ারি ২০১৭, ১৫:৩২আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৭, ১৯:৩৪


৬৯-এর শহীদ মতিউর রহমানের বাবা আজহার উদ্দিন মল্লিকের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান না হলে আমি তোফায়েল আহমেদ হতে পারতাম না বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ’৬৯ এসেছিল বলেই আমি বাংলাদেশের মন্ত্রী হতে পারেছি।’

বুধবার রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে শহীদ মতিউর রহমানের বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকরা এসব কথা বলেন।

১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হন শহীদ মতিউর রহমান। ওইদিন আমরা স্লোগান দিয়েছিলাম শেখ মুজিবের মুক্তি চাই, আয়ুব খানের পদত্যাগ চাই। গতকাল তার মৃত্যুবার্ষিকী ছিল কিন্তু ওইদিন পুরাতন ঢাকার নব কুমার ইনস্টিটিউটের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় বাণিজ্যমন্ত্রী শহীদ মতিউর রহমানের বাবা আজহার উদ্দিন মল্লিকের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। মতিউর রহমান ওই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

সাক্ষাৎ শেষে তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে  বলেন, ‘৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান না হলে ফাঁসির দড়ি থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে আমরা বাঁচাতে পারতাম না। গণঅভ্যুত্থানের ঐক্য দেখে পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিতে ঝুলানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। একই সঙ্গে আইয়ুব খান নির্বাচন না করার ঘোষণা করেন। ওই গণঅভ্যুত্থান বাঙালি জাতিকে মহান মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘৬৯ না এলে আমি তোফায়েল আহমেদ ও বাংলাদেশের মন্ত্রী হতে পারতাম না। তৎকালীন ডাকসুর ভিপি হিসেবে আমার যে নাম যশ, খ্যাতি তা ৬৯ কে ঘিরেই হয়েছে। ৬৯ এর কাছে আমি ঋণী। এই প্রেক্ষাপট তৈরি করে দিয়েছিল শহীদ মতিউর। ৬৯ এর ফসল তোফায়েল আহমেদরা মন্ত্রী হবে, আর মতিউররা ঠাঁই পাবে না এটা বাংলাদেশে হতে পারে না। এই অনুভব থেকেই শহীদ মতিউরের পরিবারকে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ার চেষ্টা করি এবং প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় এই প্লট আমরা তার পরিবারকে দিতে সক্ষম হই। আজ আমার দেখতে খুব ভালো লাগছে শহীদ মতিউরের পিতা জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারলেন। তার অন্য সন্তানরা কেউ আর অভাব অনাটনে নেই, সবারই মাথা গোজার ঠাঁই হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি এ ধরনের অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারকে যেন এভাবে আবাসনের আওতায় আনা যায় আমরা সে চেষ্টা করবো।’

এ সময় শহীদ মতিউর রহমানের পিতা আজহার উদ্দিন মল্লিক বলেন, ‘আমার ছেলে শহীদ হওয়ার পর আমি বলেছিলাম ছেলে মারা গেছে তাতে কোনও আফসোস নেই। কিন্তু তাদের ত্যাগ যেন বৃথা না যায়। আজ মনে হচ্ছে আমার ছেলের ত্যাগ বৃথা যায়নি। তোফায়েল আহমেদের প্রচেষ্টায় ও প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় শুধু আমি না, অন্য সন্তানরাও আজ মাথা গোজার ঠাঁই পেয়েছে।’

এ সময় তিনি মতিঝিলে ব্যাংক কলোনিতে মতিউর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভটি অক্ষত রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, এই প্লটটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলের নামে। তখন তিনি ওই প্লটের পরিবর্তে অন্য জায়গায় প্লট নেওয়ার কথা জানান। তখন তোফায়েল আহমেদ প্রধানমন্ত্রীকে শহীদ মতিউর রহমানের পরিবারকে প্লটটি দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। এরপর ২০০৯ সালে এক হাজার এক টাকা মূল্যে তার নামে প্লটটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই জমিতে একজন ডেভেলপারের মাধ্যমে একটি ছয়তলা ভবন করা হয়েছে। যার মধ্যে ৬টা ফ্ল্যাট পেয়েছেন শহীদ মতিউর রহমানের পিতা। এছাড়া ডেভেলপারের কাছ থেকে এককালীন ৭০ লাখ টাকাও পেয়েছেন তিনি।

/এসআই/এসএনএইচ/টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম