আগামী বছর শিশুদের হাতে ত্রুটি-বিচ্যুতিপূর্ণ পাঠ্যবইয়ের বদলে আদর্শিক ও বিতর্কহীন পাঠ্যবই তুলে দিতে ইতোমধ্যে শিক্ষাবিদ, প্রগতিশীল লেখকরা নিজ উদ্যোগেই বৈঠক, আলোচনা সভা ও সেমিনার শুরু করেছেন। আগামী ছয় মাস পাঠ্যবইগুলোর বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি বিশ্লেষণ করবেন তারা। এ বিষয়ে ব্যাপক জনমতও গড়ে তুলবেন তারা। পরে সরকারের কাছে বিচ্যুতিহীন পাঠ্যবইয়ের সুপারিশ ও সংশোধনের দাবি জানাবেন, বলে জানিয়েছেন সুশীলরা।
রবিবার বিকালে রাজধানীর সেগুন বাগিচার মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে ‘সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন’ পাঠ্যপুস্তকের সমস্যা সমাধানে করণীয় নিয়ে আয়োজিত আলোচনা চক্র থেকে এসব জানা গেছে। আলোচনা শেষে বাংলা ট্রিবিউন’কে গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিক্ষাবোর্ড ও এনসিটিবির বর্তমান এবং সাবেক পাঠ্যপুস্তক বিশ্লেষকরা পাঠ্য বইয়ের তথ্য উপাত্ত নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন। আদর্শিক বিচ্যুতি, টেকনিক্যাল বিচ্যুতি এবং একাডেমিক বিচ্যুতি বিশ্লেষণ শেষে সরকারকে একটি আদর্শ ও বস্তুনিষ্ঠ পাঠ্যপুস্তকের পরামর্শ দাবি আকারে উপস্থাপন করা হবে।’
শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন শিক্ষা কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, ‘এ যাবৎ যতগুলো শিক্ষা কমিশন গঠন হয়েছে তার মধ্যে কুদরত-এ-খুদার কমিশন ছাড়া কোনও কমিশনই আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। আমি ওইসব কমিটিতে থাকলেও তাদের মতামতের সঙ্গে একমত ছিলাম না।’
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, ‘হেফাজতের ১৭টি দাবি পূরণের পেছনে হয়ত অনুশোচনা লুকিয়ে রয়েছে। মতিঝিলে হেফাজতের সমাবেশে প্রশাসনিক বাধার অনুশোচনা হিসেবেই কি তাদের এই দাবিগুলো পূরণ করা হলো?’
শিক্ষা আইনের অনেক কিছুই অপ্রয়োজনীয় উল্লেখ করে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, ‘শিক্ষানীতি-২০১০ ধর্মনিরপেক্ষ বলে আমরা সকলেই সেটা সমর্থন করেছি। কিন্তু শিক্ষা আইন-২০১৬ দেখলে মনের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়, তার কারণ একটি শিক্ষা আইন এত ভাগে ও উপভাগে বিভক্ত থাকে এবং এগুলোতে কি বলা হয়েছে তা বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে এ কারণেই ভয়ের সৃষ্টি হয়।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক অজয় রায় বলেন, ‘পাঠ্যপুস্তকে কি অন্তর্ভুক্ত হবে তা সরকার সংসদের মাধ্যমে পাস করবে। তা না করে পাঠ্যবইকে হেফাজতীকরণ করা হচ্ছে। ফলে ধর্মীয় কারণে অনেক প্রগতিশীল লেখকের লেখা বাদ দেওয়া হয়েছে। শিশুদের হাতে কোনভাবেই সাম্প্রাদয়িক চিন্তা-চেতনার বই দেওয়া যাবে না।’
সভায় লিখিত বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পরিচালক জিয়া উদ্দিন তারেক পাঠ্যপুস্তকের সমস্যা সমাধানে ৭টি করণীয় তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এবার পাঠ্যপুস্তকে এমন পরিবর্তন হয়েছে যে আইয়ুব সরকারের ধরণ বলেই মনে হচ্ছে। এ ধরনের পরিবর্তন চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। ফলে আগামী ছয় মাস পাঠ্যপুস্তকের সমস্যা সমাধানে ব্যাপক জনমত গড়ে তোলা হবে।’
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পরিচালক জিয়া উদ্দিন তারেকের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন নারী উন্নয়ন কর্মী ও শিক্ষাবিদ রোকেয়া কবির, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান পরিষদের সভাপতি রানা দাশগুপ্ত, সিপিবি নেতা পঙ্কজ ভট্টাচার্য প্রমুখ।
/এমও/








