একটি আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের হাতে সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় একজন এএসআইকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। একজন এএসপির নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেউই বিচারের ঊর্ধ্বে নন। তদন্ত প্রতিবেদনে সাংবাদিক মারধরের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গত বছর (২০১৬) ২ কোটি ৯৪ লাখ, ৫০ হাজার, ১৭৮ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে।’ স্বতন্ত্র ওই সংসদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর গত বছর ৩৩ হাজার ২৪টি অভিযান পরিচালনা করে করে ১০ হাজার ৪৬৫ জন মাদক অপরাধীর বিরুদ্ধে ৯ হাজার ৭৭৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ৩ হাজার ৩৫০ কেজি ২১৩ গ্রাম গাঁজা, ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৫৯ পিস ইয়াবা, ৮ কেজি ৪৭৪ গ্রাম হেরোইন, ২৪ হাজার ৪৮৩ বোতল ফেন্সিডিল, ২ লাখ ৮৪ হাজার ২০৪ বোতল বিলাতি মদ, ১৫ হাজার ৬৮৩ দশমিক ৯১ লিটার চোলাই মদ, এনার্জি ড্রিংক ১২ হাজার ৬৯৮ লিটার, ইনজেকটিং ড্রাগ ১২ হাজার ৩৩১ অ্যাম্পুল, ডিনেচার্ড স্পিরিট ১০ হাজার ৯৪৪ দশমিক ৮ লিটার, রেকটিফাইড স্পিরিট ২ হাজার ৩৬১ দশমিক ৯ লিটার, পঁচুই ৭ হাজার ১৪ লিটার ও ৬ হাজার ৩৫৯ লিটার তাড়ি আটক করা হয়েছে।’
লুৎফা তাহেরের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গত বছরে সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবি ২ লাখ ৬৮ হাজার ২২৩ বোতল ফেন্সিডিল, ১৭ হাজার ৮৬৪ কেজি গাঁজা, ২ লাখ ১ হাজার ৫ শ বোতল বিদেশি মদ, ৭ হাজার ৬৮৮ লিটার দেশি মদ, ৫৮ হাজার ৫৭ বোতল বিয়ার, ৩৩ কেজি ৭৯৯ গ্রাম হেরোইন, ৮১ লাখ, ৬৯ হাজার ২৬৭ পিস ইয়াবা ও ২৬ হাজার ৪০৬ অ্যাম্পুল নেশাজাতীয় ইনজেকশন আটক করেছে। এ সময় ৮টি রিভালবার, ৪২টি পিস্তল, অন্যান্য গান ২৯টি, ২৫৫টি বিভিণ্ন ধরনের বারুদ, গ্রেনেড ৫টি, ম্যাগজিন ৪৩টি, গান পাউডার ২৫ কেজি ও আইইটি ২টি আটক করে বিজিবি।
চট্টগ্রাম-৪ আসনের দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে ট্রাফিক সিগন্যাল সংবলিত ৯২টি ইন্টারসেনশনে সোলার প্যানেল, টাইমার, কাউন্ট-ডাউন, সোলার কনভারটার, সোলার ইনভারটর, জেলা ব্যাটারি ও সিগন্যালসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি সংযোগ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে সিগন্যাল লঅইট অনুযায়ী যানবাহন চলাচলের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান রয়েছে। তবে, সিটি করপোরেশন থেকে এখনও সিগন্যাল সিস্টেমের মেইনন্টেন্যান্স কন্ট্রাক্ট হয়নি এবং রিমোর্ট কন্ট্রোল সরবরাহ করা হয়নি। সম্ভব হলে সোলার নিয়ন্ত্রিত অটো সিগন্যালগুলো চালু করার মাধ্যমে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করে অটোমেটিক এবং রিমোর্ট কন্ট্রোলের সমন্বয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট অনুযায়ী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ শুরু করা হবে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বৈঠকের শুরুতে প্রশ্ন-উত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
ইএইচএস/এমএনএইচ/








