বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে স্থাপিত ১৩টি অবৈধ স্থাপনা এবং আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এছাড়া চট্টগ্রামের হালদা নদীর দূষণরোধ এবং সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর দূষণরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুধবার সচিবালয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীসহ ঢাকার চারপাশে নদীগুলোর দূষণরোধ এবং নাব্যতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত ‘টাস্কফোর্স’র ৩৪তম সভায় এ সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী ও টাস্কফোর্সের সভাপতি শাজাহান খান।
সভায় বলা হয়েছে, সাভারে এ পর্যন্ত ৪৩টি বড় ধরনের ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরিত হয়েছে। নদীতীরে ধর্মীয় স্থাপনা বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে। নদী রক্ষা বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রম গণমাধ্যমে প্রচার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও অবৈধ স্থাপনা বন্ধে নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।
সভায় ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেনসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, নদীর সীমানা ও তীর ভূমি নিয়ে জটিলতা নিরসনের জন্য জরিপ অধিদফতর থেকে নকশা তুলে জেলা প্রশাসকদের সরবরাহ করার লক্ষ্যে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখেছে। ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের জন্য ২ হাজার ৫৮৬টি সিএস জরিপ ম্যাপ এবং ২ হাজার ৭৩টি আর এস জরিপ ম্যাপ সংগ্রহ করা হবে।
সভায় আরও জানানো হয় যে, নদী বন্দর এলাকায় শক্ত আরসিসি সীমানা পিলার নির্মাণ বা পুনঃনির্মাণের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ডিপিপি অনুমোদনের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
ঢাকা শহরের চারপাশে ৫০ কিলোমিটার এলাকায় ৯ হাজার ৫০০টি
সভায় পুনঃজরিপের কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নদীর দুই তীরে সব ধরনের স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরভূমিতে স্থাপিত ১৩টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও পুনঃউদ্ধারে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণরোধ এবং নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য ‘মাস্টার প্ল্যান’ তৈরির কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দফতর ও সংস্থাকে কো-অপট করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, এলজিআরডি মন্ত্রীকে চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালককে (প্রশাসন) সদস্য সচিব করে গত ৫ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত যে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির প্রথম সভা বৃহস্পতিবার এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
/এসআই/জেএইচ/এমএনএইচ








