জাহাজভাঙা শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে শতকরা ৩৩ ভাগ অ্যাজবেসটোসিস নামে একটি পদার্থের কারণে শারীরিক অসুস্থতায় ভোগেন। বাংলাদেশ অক্যুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশন (ওশি) নামের এটি স্বাস্থ্য গবেষণা সংগঠন এ তথ্যটি আবারও সামনে তুলে এনেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি তাদের একটি সমীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে।
সংগঠনটির চেয়ারপার্সন সাকি রিজওয়ানা লিখিত বক্তব্য বলেন, জাহাজকে আগুনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জাহাজে অ্যাজবেস্ট্স নামে একটি ক্ষতিকর পদার্থ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু যখন জাহাজ মেরামত অথবা ভেঙে ফেলা হয় তখন এই পদার্থটি নিঃসরণ হতে থাকে। আর নিঃসরিত এই পদার্থ শ্রমিকদের অজান্তে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে তাদের শরীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন জটিল রোগের সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, আমরা ১০১ জন শ্রমিকের ওপর একটি সমীক্ষাটি চালিয়ে দেখেছি, ৩৩ জনের শরীরেই অ্যাজবেস্টসের উপস্থিতি রয়েছে। এদের আট জনের শরীরে ৬০ ভাগেরও বেশি অ্যাজবেসটসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই সমীক্ষাটি গত বছরের ২৬ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই এবং চলতি বছরের ২৮ থেকে ২৯ জানুয়ারি মোট দুই ধাপে পরিচালনা করা হয়েছে।
রিজওয়ানা জানিয়েছেন, এ প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও নির্দেশিত মাত্রা ১/১ রেটিক্যুলার অপাসিটিস এবং শ্রমিকদের গত ১০ বছরের পেশাগত কর্মকাণ্ডের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে অ্যাজবেসটোসিস রোগের ডায়াগনস্টিক সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সমীক্ষাটি চলাকালীন সময়ে আক্রান্তদের স্পাইরেমেট্রি ও নেবুলাইজেশন দেওয়া হয়েছে এবং সাপ্তাহিক চেক-আপ ও প্রতিমাসে রোগীদের ফুসফুস একবার পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সমীক্ষা প্রতিবেদনটিতে অ্যাজবেসটোসিস রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসক, নার্সদের প্রশিক্ষণ দেয়া, শিপইয়ার্ডের অন্যান্য শ্রমিকদের শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের সমস্যা, অ্যাজবেসটোসিস রোগীদের জন্য সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সুপারিশমালা তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওশি'র ভাইস চেয়ারপার্সন ড. এস এম মোর্শেদ, সমীক্ষাটির গবেষক চেন্নাইয়ের শ্রী বালাজি মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুরালি ধর, গবেষণা দলটির চিকিৎসক ফাইজুল আহসান শুভ্র প্রমুখ।
/আরএআর/টিএন/








