বাংলাদেশ থেকে খুব বেশি অর্থ পাচার হয় না বলে মন্তব্য করেচেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের যেসব কাহিনি শুনি, তা ঠিক নয়। এসব কাহিনি ‘রঙ-চঙ’ দিয়ে বলা হয়। যে ধরনের অর্থ পাচারের কথা বলা হয়, বাস্তবে ততটা হয় না। অর্থ পাচার একেবারে হয় না তা নয়, তবে আমাদের অর্থ পাচার খুব বেশি নয়।’’ সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্ন-উত্তরপর্বে স্বপন ভট্টচার্য্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের শুরুতে প্রশ্ন-উত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
এই সংসদ সদস্যের বাংলাদেশে ব্যবসারত বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার বাজারে আসতে বাধ্য করার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে অর্থ মন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের কোনও কার্যক্রম দেশের অর্থনীতির স্বার্থে মঙ্গলজনক বলে আমার মনে হয় না।’
দেশে ঋণ খেলাপির সংখ্যা ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৩২
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাসিমা ফেরদৌসীর প্রশ্নের জবাবে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ব্যক্তি বা কোম্পানির সংখ্যা ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৩২ জন। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে মোট ঋণের পরিমাণ ৬৩ হাজার ৪৩৫ কোটি টাক। এর মধ্যে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫৮ হাজার ৮৭৭ (মোট ঋণের ৯.২৬%) কোটি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৪ হাজার ৫৫ কোটি টাকা।
মৌলভীবাজার-২ আসনের আব্দুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থ বছরের ৬ মাসে তফসিলি ব্যাংকগুলো থেকে ৯ হাজার ৯৩৩ কোটি ৫ লাখ টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এই ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ। তবে তৈলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ও ভুট্টা চাষে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদের হারে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেয়।
জাহান আরা বেগম সুরমার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ১০১ দশমিক শূন্য ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে ৩৪ দশমিক ৫৩ মি. ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি অর্থ উদ্ধার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ফেরতের লক্ষ্যে ফিলিপাইনে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
/ইএইচএস/এমএনএইচ/








