মার্কিন গোয়েন্দা থিংক ট্যাংকের সতর্কতা

শহুরে জীবনের চাপ উপমহাদেশে ধর্মীয় আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করবে

ললিত কে ঝা, ওয়াশিংটন
১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২৩:০৬আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২৩:২২

ন্যশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের শহরগুলোতে ক্রমবর্ধমান নাগরিকদের মধ্যে ধার্মিক হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে সতর্কতা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা থিংক ট্যাংক ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল। তাদের ‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহুরে জীবনের চাপের কারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে রাজনৈতিক ইসলামি আন্দোলন গতি পেতে পারে। আর ভারতের ক্ষেত্রে বেগবান হতে পারে হিন্দু জাতীয়তবাদী আন্দোলন।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণে ভূমিকা রাখে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘শহরে আসা নতুন মানুষদের মধ্যে ধার্মিক হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে শহুরে জীবনের চাপের কারণে রাজনৈতিক ইসলামি আন্দোলন বেগবান হতে পারে। বিশেষ করে দুই দেশের সবচেয়ে পুরনো ও গভীরভাবে শেকড় গেঁড়ে থাকা ইসলামি আন্দোলনগুলো গতি পেতে পারে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শহুরে ইসলামি সংগঠন। আর ভারতে হিন্দুত্ববাদ বা হিন্দু জাতীয়তাবাদও প্রধান শহুরে প্রবণতায় পরিণত হয়ছে।’
এতে আরও বলা হয়েছে, ভারতের সবচেয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক সংগঠন হচ্ছে শিব সেনা। তারা চার দশক ধরে দেশটির বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র মুম্বাই শাসন করছে। ভারতের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারকে ক্রমাগত হিন্দুত্ববাদী নীতির দিকে ধাবিত করছে। এর ফলে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বাড়ছে। যা বাড়ছে প্রতিবেশী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেও।
ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের ‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রচ্ছদ প্রতিবেদনটিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘যদি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান তাদের ক্রমবর্ধমান শহুরে নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থান ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারে এবং কর্মকর্তারা যদি জাতপাতের বিচারে শাসন অব্যাহত রাখেন, তাহলে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সাম্প্রদায়িকতা বৃদ্ধি পাবে।’
ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের দুই শতাধিক পাতার এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ভুক্তভোগী দেশ হতে পারে বাংলাদেশ। বাংলাদেশসহ কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির ফলে এ অঞ্চলে বন্যা ও এর ফলশ্রুতিতে নদীভাঙন বৃদ্ধি পেতে পারে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইরান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে নিজেদের ভূমিকা আরও বৃদ্ধি করবে ভারত। এ ধরনের সহযোগিতা এ অঞ্চলজুড়ে স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করবে, বিশেষ করে সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারত যদি রাজনৈতিক দলগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ধারণার চেয়েও দ্রুত গলে যেতে পারে পামির পর্বতমালার বরফ। এখান থেকে ভারত ও পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর উৎপত্তি। এতে বলা হয়েছে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় বেড়ে যাওয়ার কারণে সামান্য পরিমাণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের সমতল ভূমি, যা এমনিতে কমে এসেছে, তা আরও হ্রাস পেতে পারে। ফলে খাবার পানির উৎস হুমকির মুখে পড়বে। ভারত ও মিয়ানমারে মানুষকে ঠেলে দেওয়া এবং জাতিগত নিপীড়ন ও আঞ্চলিক সংঘাতও বৃদ্ধি পেতে পারে।
ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল হাইপোথিটিক্যাল সংবাদ প্রতিবেদনের মাধ্যমে ২০৩৩ সালে পরিস্থিতি কেমন হবে তা দৃশ্যমানও করে তুলেছে। ২০৩৩ সালের ৪ এপ্রিলের তারিখ দিয়ে তৈরি করা প্রতিবেদনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট জিওইঞ্জিনিয়ারিং স্পার্ক প্রটেস্টস’। এতে মূলত বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে।
ভবিষ্যতের চিত্র তুলে ধরা এই সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের হার কমিয়ে আনতে প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সংস্কার করা বোয়িং ৭৯৭ বিমান থেকে বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে কয়েক মেট্রিক টন সালফেট স্প্রে করছে। সূর্যের বিকিরণের উষ্ণতার প্রভাব কমিয়ে আনতে গৃহীত ছয়টি ফ্লাইটের প্রথম ছিল এটি।’
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘‘অভূতপূর্ব এই পদক্ষেপের ফলে ২৫টি দেশ কূটনৈতিকভাবে হুঁশিয়ারি জানিয়েছে। বেশ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে সহিংস বিক্ষোভ করেছেন জনগণ। ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও এ ধরনের উদ্যোগে এসিড বৃষ্টি বৃদ্ধি ও ওজোন স্তরের নিঃশেষের সতর্কতার পরও ঢাকার কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ‘এটা ছিল আত্মরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ’।”

আরও পড়ুন-

সরকারি অব্যবস্থাপনায় বেসরকারি হজযাত্রী নিবন্ধনে বিলম্ব

/এএ/টিআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম