বাংলা ট্রিবিউনকে বিশ্বব্যাংক

পদ্মা সেতু নিয়ে আমাদের পর্যবেক্ষণ আগেই জানিয়েছি

শফিকুল ইসলাম
১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৮:০৬আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:২৪







বিশ্ব ব্যাংক কানাডার আদালত কর্তৃক পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের আনা দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা ঋণ বাতিল করেছিল বিশ্বব্যাংক, সেই দুর্নীতির মামলাকে ‘অনুমানভিত্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন কানাডার একটি আদালত। কানাডার সংবাদমাধ্যম টরোন্টো স্টার সূত্রে শুক্রবার এই তথ্য জানা যায়। টরোন্টো স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার বিচারক নরডেইমার চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই রায় দিলেও শুক্রবার পর্যন্ত তা প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা ছিল।





এ প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে বিশ্বব্যাংকের মন্তব্য জানতে চাইলে ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিমিয়াও ফান-এর পক্ষে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা মেহরিন এ মাহবুব ই-মেইলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিক্রিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান।  
ইমেইলে পাঠানো বিশ্বব্যাংকের প্রতিক্রিয়ায় মেহরিন জানিয়েছেন,  ‘‘ বিশ্বব্যাংক তার অর্থায়িত প্রকল্পে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে থাকে। যখন বিশ্বব্যাংকের একটি তদন্ত শেষ হয়, তখন সেই তদন্তের অনুসন্ধান পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট দেশকে। যেন তারা বিবেচনায় নিতে পারে যে, এর মধ্যদিয়ে তাদের জাতীয় আইন ক্ষুণ্ন হয়েছে কিনা। পরবর্তীতে সেই সংশ্লিষ্ট দেশের পর্যবেক্ষণ বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত পর্যবেক্ষণ সেই দেশকেই দেওয়া হয়।’’
উল্লেখ্য, পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাংকের সব উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনকেও মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ওই রায়ে এসএনসি-লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও বাংলাদেশ-কানাডার দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যবসায়ী জুলফিকার ভূইয়া এই মামলা থেকে অব্যাহতি পান।
প্রসঙ্গত, ওই দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে টানাপোড়েনে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল হয়ে যায়। পরে নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে হাত দেয় বাংলাদেশ।
ওই দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পদত্যাগ করেন তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধেও ওই দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।
বাংলা ট্রিবিউনকে বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা মেহরিন এ মাহবুবের মেইল
বিশ্ব ব্যাংকের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ২০১৪ সালের অক্টোবরে দুদকের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তৎকালীন সেতু সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াসহ সাত আসামির সবাইকে অব্যাহতি দেন আদালত।
এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, পদ্মাসেতু প্রকল্পে পাঁচ কোটি ডলারের কাজ পেতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা ২০১০ ও ২০১১ সালে বাংলাদেশের সেতু কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। প্রমাণ হিসেবে ফোনে আড়িপাতা তথ্য (অয়্যার ট্যাপস) ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে ২০১১ সালে তিনটি আবেদন করে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)। অন্য এক আদালত ওই অনুমতি দিয়েছিল।
তবে কানাডার সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ইয়ান নরডেইমার ওই অনুমতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। প্রথম এবং তৃতীয় আড়িপাতা তথ্য আদালত আগেই খারিজ করে দেন। দ্বিতীয় আড়িপাতা তথ্যের মধ্যে যেগুলো যেসব তথ্য আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোকে বিচারক ‘অনুমানভিত্তিক ও গুজব’ বলে উল্লেখ করেন।
আদালতের রায়ে বিচারক ইয়ান নরডেইমার জানান, আদালতে ওই গুজব বা অনুমানকে সমর্থন করার মতো কোনও তথ্য-প্রমাণ হাজির করা হয়নি। বরং যেসব তথ্য প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাও ‘ধারণা নির্ভর’।
নরডেইমার আরও বলেন, ‘আমার মতে, যেসব আড়িপাতা তথ্য সুপ্রিম কোর্টে হাজির করা হয়েছে, তা হাস্যকর।’
এদিকে শনিবার ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় উল্লেখ করেন, ‘কানাডার একটি আদালত পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের হওয়া মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন। এর মধ্যে দিয়ে ফের প্রমাণিত হলো যে দুর্নীতির কথা বলা হয়েছিল, তা কেবলই গালগল্প ও গুজব ছিল।’
দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২০১১ সালে পদ্মাসেতুর কাজ বন্ধ করে দেয় এর প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংক। তাদের অনুরোধে কানাডার পুলিশ সে দেশের দুই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসএনজি ও লাভালিন ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। ২০১২ সালে কানাডার আদালতে এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
২০১৩ সালে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজে দুর্নীতির ঘটনায় এসএনসিকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং পদ্মাসেতুর অর্থায়ন থেকে পিছু হটে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব ব্যাংকের পিছিয়ে যাওয়ার জন্য গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়ী করেন।

/এপিএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম