বিশ্বব্যাংকের অভিযোগটি পদ্মা সেতু ও আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছিল: সৈয়দ আবুল হোসেন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৯:৩৪আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২০:০৯

পদ্মা সেতু, সৈয়দ আবুল হোসেন ও বিশ্ব ব্যাংক

পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের ওঠানো দুর্নীতির অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। শুক্রবার কানাডার একটি আদালত এই মামলাটিকে ‘অনুমানভিত্তিক’ বলে খারিজ করে দেওয়ার পর ফেসবুকে দেওয়া প্রতিক্রিয়া এবং বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বব্যাংকের আনা দুর্নীতির অভিযোগটি পদ্মা সেতু ও আমার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ ছিল।’   

কানাডার সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ইয়ান নরডেইমার মামলাটি নাকচ করে দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যোগাযোগ করলে তিনি বলেছেন, ‘আমি নির্দোষ এ কথা আবারও প্রমাণিত হলো। আমার সততা উচ্চকিত হলো। এই ষড়যন্ত্রে পদ্মা সেতু নির্মাণের স্বার্থে আমাকে মন্ত্রীত্ব ছাড়তে হয়েছে। জনগণের কাছে আমাকে ছোট হতে হয়েছে। পত্রিকাগুলো মনগড়া রিপোর্ট করেছে। আমার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। আজ তার জবাব দিল কানাডার আদালত।’

প্রসঙ্গত: যে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা ঋণ বাতিল করেছিল বিশ্বব্যাংক, সেই দুর্নীতির মামলাকে ‘অনুমানভিত্তিক’ বলে উল্লেখ করে রায় দিয়েছে কানাডার একটি আদালত। এ তথ্য নিশ্চিত করে কানাডার সংবাদমাধ্যম টরোন্টো স্টার জানিয়েছে, মামলার বিচারক নরডেইমার চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই রায় দিলেও গত ১০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার পর্যন্ত তা প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা ছিল।

এদিকে, এই রায়ের পর সৈয়দ আবুল হোসেনের সঙ্গে যোগযোগ করলে তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধু পাওয়া যায়। এরইমধ্যে ফেসবুকে সৈয়দ আবুল হোসেনের পক্ষে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। এরপর নানা সূত্রে জানা যায় তিনি বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন। সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকে যোগযোগ করে তার সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের। বিবৃতিটি সঠিক কিনা তা নিশ্চিত হতে তার সঙ্গে ফেসবুকে যোগাযোগ করা হলে তিনি এর সত্যতা নিশ্চিত করেন একইসঙ্গে জানান, বিশ্বব্যাংকের আনা দুর্নীতির অভিযোগটি পদ্মা সেতু ও আমার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ ছিল।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘কানাডার আদালতের এই রায় প্রমাণ করে, পদ্মা সেতু নিয়ে আমাকে জড়িয়ে বিশ্বব্যাংক যে অভিযোগ করেছিল তা সর্বৈব মিথ্যা। বাংলাদেশের তৎকালীন বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি গোল্ডস্টেইন এবং বাংলাদেশের পত্রিকার অসত্য রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাংক যে কাল্পনিক অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল- তা শুধু মিথ্য নয়, ষড়যন্ত্রমূলক। আমি বিশ্বব্যাংক এবং বাংলাদেশি স্বার্থন্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। এ ষড়যন্ত্র আমার দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম, মর্যাদা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পথকে বাধাগ্রস্ত করেছে। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।’

বিবৃতিতে সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্টের স্বীকারোক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার চীনের এক আন্তর্জাতিক ফোরামে সাক্ষাৎ হয়। তিনি তখন বলেছিলেন, আম বুঝতে পারছি পদ্মা সেতু এবং আপনি ষড়যন্ত্রের শিকার। বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা তখন বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও বিশিষ্ট কতিপয় লোকের কথা প্রভাবিত হয়েছেন। এ জন্য আমি অনুতপ্ত।’

আবুল হোসেন তার বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘আমার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সাকো’কে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে জড়ানো হয়েছে। পরামর্শক নিয়োগে ৩৭ মিলিয়ন ডলার দর প্রস্তাবের ৩৫ মিলিয়ন ঘুষ লেন-দেনের অভিযোগ করা হয়েছে।– টক-শোতে এ বিষয় নিয়ে বিশিষ্টজনরা রাতের ঘুম হারাম করে আলোচনায় অংশ নেন- তা ছিল উদ্দেশ্যমূলক। বাংলাদেশে এসে বিশ্ব ব্যাংকের আইন উপদেষ্টা ওকাম্পো যে আইন বিরোধী লম্প-ঝম্প দেখালেন, সরকার, পদ্মা সেতু এবং আমার বিরুদ্ধে যে মিথ্যাচার করলেন, তা ষড়যন্ত্রের ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসেবে থাকবে।’

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, পদ্ম সেতু নির্মাণে মিথ্যা অভিযোগে আমাকে ও আমার পরিবারকে হেনস্তা করা হয়েছে। সরকারের সচিব পর্যযায়ের কর্মকর্তাকে বিনা দোষে জেল খাটতে হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রে পদ্মা সেতু নির্মাণের স্বার্থে আমাকে মন্ত্রীত্ব ছাড়তে হয়েছে। আমাকে জনগণের কাছে ছোট হতে হয়েছে। কানাডায় আমার জামাতার ব্যাংক হিসাব চেক করা হয়েছে। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনসহ আমার সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তদন্ত করা হয়েছে।’

বিবৃতিতে তিনি গণমাধ্যমের কাছে জবাবদিহিতা আশা করে বলেন, ‘যে সব মিডিয়ায় মিথ্যা রিপোর্ট, অতিশয় বাড়াবাড়ি লেখা, কার্টুন প্রকাশ, সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয় লেখায় প্রভাবিত হয়ে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আমাকে অভিযুক্ত করা হলো, আমার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হল, তাদের আজকের জবাব কী?’

সৈয়দ আবুল হোসেন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, পত্রিকাগুলো শুধু পদ্মাসেতু নিয়ে মিথ্যা রিপোর্ট করেছে তা নয়, আমার মন্ত্রিত্বকালীন কাজ নিয়ে, সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে পদত্যাগ চেয়েছে। আমার ব্যক্তিগত পাসপোর্ট নিয়ে, আমার গ্রামের বাড়ি নিয়ে, যোগাযোগমন্ত্রীর গাড়ি কেনা নিয়ে সকড় নির্মাণের সার সংক্ষেপ নিয়ে, বিএনপির শ্বেতপত্রের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণের বিষয় নিয়ে, আওয়ামী লীগ থেকে আমি পদত্যাগ করেছি এই মর্মে আমার স্বাক্ষর জাল করে একটি চিঠি পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়, যা ছিল উদ্দেশ্যমূলক।        

সৈয়দ আবুল হোসেন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমি জীবনে সৎ থেকে ব্যবসা করে উপার্জন করেছি, জনগণের জন্য ব্যয় করেছি। 

তিনি বিবৃতিতে দাবি করেন, ‘বিশ্বব্যাংকের চাপে পদ্মা সেতুতে ঘুষ লেনদেনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে মামলা করে দুদক এবং প্রায় দুই বছর তদন্ত শেষে অভিযোগের কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি। পদ্মা সেতু নির্মাণে আমি দ্রুততার সঙ্গে কাজ করেছিলাম। অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছিলাম। আমার সময়ে প্রণীত ডিজাইন ও দরদাতা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অনুমোদন দিয়ে বর্তমান পদ্মা সেতু নির্মিত হচ্ছে।’

/এসএমএ/টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি