১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। আর সেই ভালোবাসা সব পেশাজীবী মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে রাস্তায় নেমেছেন একঝাঁক তরুণ-তরুণী। এদের সবার গায়ে সবুজ রঙের টি-শার্ট। টি-শার্টের সামনে পেছনে লেখা আছে "Love for all"। আছে লাভ চিহ্নও। আর হাতে লাল গোলাপ। যেখানে যাকেই পাচ্ছেন তার হাতে একটি লাল গোলাপ ধরিয়ে দিয়ে ভালোবাসা ব্যক্ত করছেন এভারগ্রিন জুম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন নামের এই সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা।
মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে সংগঠনটির তরুণ-তরুণীরা এক পদযাত্রার মাধ্যমে সবাইকে লাল গোলাপ দেওয়া শুরু করেন। প্রেসক্লাবে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
পরে তারা দল বেঁধে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে অসুস্থ রোগী, ডাক্তার, এবং রোগীর স্বজনদের হাতে ফুল দেন। পরে তারা বাংলা একাডেমির ২১শে গ্রন্থমেলায় আসা দর্শনার্থী, প্রকাশনীর দোকানিদেরকে ফুল দিয়ে ভালোবাসা জ্ঞাপন করেন।
আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ, চা দোকানি, নিরাপত্তা কর্মী, পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, পরিছন্নতা কর্মীসহ সব ধরনের পেশাজীবী মানুষকে তারা লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
সংগঠনটির উদ্দেশ্য কী জানতে চাইলে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও এডমিন রাসেল সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভালোবাসা দিবস মানেই সবাই মনে করেন এই ভালোবাসা কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার জন্যই। মানুষের এই গতানুগতিক ধারণাকে পাল্টে দিতেই আমাদের প্রয়াস। আমরা চাই সবাই সবাইকে ভালোবাসুক।
ভালোবাসা দিবসে সবাইকে ফুল দেওয়া তরুণ-তরুণীরা জানান, ভালোবাসাকে সমাজের সব পেশাজীবীর প্রতি নিবেদনের মাধ্যমে তারা এটাই বোঝাতে চান যে আসলে ভালোবাসা কখনও এককেন্দ্রিক হতে পারে না। সবার ভালোবাসা সবার জন্য থাকা শ্রেয়।
এভারগ্রিন জুম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর শিসা শিকদার বলেন, ভালবাসা কোনও নির্দিষ্ট দিন বা ব্যক্তির জন্য নয়। সকলের জন্য। আমরা ভালোবাসা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই।
এভারগ্রিন জুম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এসটি শাহীন বলেন, জন্মের পর থেকেই মানুষ ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে বেড়ে ওঠে। কিছু ভালোবাসা রক্তের সম্পর্কের, কিছু ভালোবাসার সৃষ্টি প্রাত্যহিক জীবনে চলতে গিয়ে; তেমনিভাবে কিছু ভালোবাসা আন্তরিকতারও হয়। ভালোবাসা আমাদের সহজাত মানবিক প্রবৃদ্ধি। তাই আসুন এই ১৪ ফেব্রুয়ারি সবাই মিলে সৃষ্টি করি ভালবাসা দিবসের নতুন সংজ্ঞা; গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গি দূর করে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করি।
তিনি আরও বলেন, তাদের এই সংগঠনটি ২ বছরের বেশি সময় ধরে পথশিশুদের নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া জুম বাংলাদেশ স্কুল নামে দুটি স্কুল পরিচালনা করছেন তারা যেখানে প্রায় ২শ’ পথশিশু লেখাপড়া করে। সংগঠনের পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষভাবে সর্বমোট প্রায় ৫০০ জন সদস্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। এরা সবাই বেসরকারি ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের শিক্ষার্থী।
/আরএআর/টিএন/








