দেশের নাগরিক হিসেবে সুস্থ, সুন্দর ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার সমস্ত অধিকার বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন যৌনকর্মীরা। ক্ষতিপূরণ ও পুর্নবাসন ছাড়া উচ্ছেদ বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড এসটিডি এলাইন্স বাংলাদেশ (হাসাব) ও মানুষের জন্যের আয়োজনে যৌনকর্মীদের মানবাধিকার উন্নয়ন বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তোলেন তারা।
সভায় সেক্স ওয়ার্কার নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি ইভা আহমেদ কথা লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘কোনও যৌনকর্মীই শখ করে এই পেশায় আসে না। যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে কেউ বাধ্য হয় বা বাধ্য করা হয়। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে যৌনকর্মী হিসেবে একজন নারী বৈধভাবে কাজ করার জন্যও নিবন্ধনও নেয়।’
যৌনপল্লীর কর্মীদের কাছে পল্লীই তাদের একমাত্র ঘর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই পল্লীদেরই একজন যৌনকর্মী নিজেকে নিরাপদ মনে করেন। অথচ আশির দশকের প্রথম দিক থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ধর্মীয় অনুশাসনকে পুঁজি করে, ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে স্বার্থান্বেষী মানুষ প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে যৌনপল্লী উচ্ছেদ করে চলেছে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় রাজনীতিবীদদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ইভা আহমেদ বলেন, ‘উচ্ছেদের সময় আমাদের তিলে তিলে গড়া সম্পদ, টাকা পয়সা লুট করে নেয়। সর্বশেষ ২০১৩ সালে মাদারিপুর, ২০১৪ সালে টাঙ্গাইল এবং ২০১৫ সালে ফুলতা যৌনপল্লী উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু এসব যৌনকর্মীদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হয়নি এমনকি তাদের ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়নি।’
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, সেক্স ওয়ার্কার নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক চুমকি বেগম, হাসাবের প্রোগ্রাম অফিসার মনিরুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক এলিসন সুব্রত বাড়ই প্রমুখ।
/আরএআর/এমও/








