বাংলাদেশের পত্রিকায় নারীকর্মীদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম ক্রমবর্ধমান এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী এখানে কাজ করেন। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) উদ্যোগে ‘বাক স্বাধীনতা রক্ষা’ শীর্ষক একটি সেমিনারে এ কথা বলেন, যুক্তরাজ্য ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিনের বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক তাহমিনা রহমান।
ব্লাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্নার সভাপতিত্বে এবং ব্লাস্টের অনারারী নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেনের সঞ্চালনায় এই আয়োজনে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন তাহমিনা রহমান।
উক্ত সভায় বাংলাদেশের সর্ব ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিশেষত গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যম কর্মীদের বাক স্বাধীনতার উপর আলোকপাত করা হয়। বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে নারী সংবাদকর্মীদের কর্মক্ষেত্রে কাজের পরিবেশ ও তাদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয় সেমিনারে।
তাহমিনা রহমান বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ৩৪৫টি সংবাদ পত্র, ৭৫টি অনলাইন সংবাদ পত্র, ৪৪টি টেলিভিশন চ্যানেল যার মধ্যে ২৯টি চলমান রয়েছে, ২২টি এফএম রেডিও রয়েছে, যার মধ্যে একটি বিশাল অংশ নারী সংবাদকর্মী। এর মধ্যে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় নারী সংবাদকর্মীদের অধিকার তুলনামূলক বেশি রক্ষিত হচ্ছে।
১৯৯৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৫১জন সাংবাদিক এবং নিকট অতীতে ৯জন ব্লগার নিহত হওয়া এবং এগুলোর সুষ্ঠু বিচার না হওয়া বাক স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে অনেকাংশে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মনে করেন তিনি।
তবে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এবং গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে তাহমিনা রহমান সকলকে এই আইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার এবং সরকারকে এই আইন সংশিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান এবং কর্মকর্তাকে যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদানের আহ্বান জানান।
‘বাক স্বাধীনতা রক্ষা’ শীর্ষক এই সেমিনারে সকলকে বাংলাদেশে বিদ্যমান বাক স্বাধীনতা এবং এই সংশ্লিষ্ট আইনের ব্যাপারে সচেতন হয়ে মুক্ত আলোচনার ব্যাপারে তাগিদ দেওয়া হয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে কিছু সংস্কার আনার ব্যাপারেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
পরবর্তীতে মুক্ত আলোচনা পর্বে সেমিনারে অংশ গ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আলোচক।
/এফএএন/








