একটু সময় চান ট্যানারি মালিকরা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৬ মার্চ ২০১৭, ২১:২৩আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৭, ২১:২৩

হাজারীবাগের একটি ট্যানারি হাইকোর্ট হাজারীবাগের ট্যানারি কারখানাগুলো বন্ধের নির্দেশ দিলেও সুযোগ থাকলে সময় বাড়ানোর জন্য আপিল করবে বলে জানিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। 

সোমবার সন্ধ্যায় এক জরুরি বৈঠক শেষে বাংলা ট্রিবিউনকে এ কথা জানিয়েছেন ট্যানারি মালিক সমিতির চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন।

তিনি বলেন, আমরা এখন কাঁচা চামড়ার কাজ সাভারে করছি। তবে খুব সামান্য কাজ এখনও হাজারীবাগে হয়। সেটাও কয়েক মাসের মধ্যেই বন্ধ করে দেবো বলে মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। অথচ হাইকোর্ট আমাদের কারখানা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা দেশের সুনাগরিক, তাই হাইকোর্টের নির্দেশ মানতে বাধ্য। 

তিনি আরও বলেন, আমরা আজ পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে কারখানা বন্ধের নির্দেশের কথা জানতে পেরেছি। তবে এখনও নোটিশ হাতে পাইনি। নোটিশ পেলে এবং সুযোগ থাকলে সময় বাড়ানোর জন্য আপিল করবো।

এ বিষয়ে মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আব্দুল আউয়াল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া রফতানি করি। আমাদের অনেক ক্লায়েন্টকে এখনও মাল বুঝিয়ে দিতে পারিনি। কিন্তু হঠাৎ কারখানা বন্ধ করার নির্দেশ এসেছে। সময় মতো মাল বুঝিয়ে না দিতে পারলে ক্লায়েন্টদের কাছে আমরা ছোট হয়ে যাব। তারা আমাদের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধও করে দিতে পারেন। 

তিনি আরও বলেন, এক বুড়িগঙ্গা রক্ষা করতে গিয়ে তিনটি নদী ধ্বংস করতে চাইছে সরকার। ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা তিনটি নদীই দূষিত হবে এখন। 

সাভারে জমি এখনও বুঝে পাননি অভিযোগ করে তিনি বলেন, এখনও সরকার আমাদের জমি বুঝিয়ে দেয়নি। সেখানে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিরও ব্যবস্থা করেনি সরকার। তাহলে সেখানে আমরা কাজ করবো কিভাবে? এখন যে মেশিনগুলো হাজারীবাগে আছে সেগুলো স্থানান্তর করতেও অন্তত তিন মাস সময় লাগবে। জুন মাস পর্যন্ত সময় পেলে আমরা সব কারখানা স্থানান্তর করতে পারতাম।

প্রসঙ্গত, আজ (সোমবার) অবিলম্বে হাজারীবাগের সব ট্যানারি  বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ থাকলেও কারখানাগুলো এখনও চালু রয়েছে।

হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সরিয়ে নিতে ২০০১ সালে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এরপর কয়েক দফা এই সময়সীমা বাড়ানো হয়। গত ১৬ জুন হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি না সরানো পর্যন্ত পরিবেশের ক্ষতি হিসেবে ১৫৪ কারখানার মালিককে রোজ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে।

এই আদেশের পরে ট্যানারি মালিকেরা আপিল করলে আপিল বিভাগ দৈনিক ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেন। তবে ট্যানারি কারখানাগুলো হাজারীবাগ থেকে সরেও যায়নি,জরিমানার কোনও অর্থ প্রদান করেনি, যা আদালত অবমাননার শামিল। গত ২ মার্চ আদালত  সব কারখানাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকারি কোষাগারে বকেয়া জরিমানা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আরএআর/এএআর/

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম