মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তে সহযোগিতা করছেন না এমপি-ডিসিরা

এস এম আববাস
১২ মার্চ ২০১৭, ০১:৪৬আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৭, ০১:৪৬

আইসিটি

মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত কাজে কয়েকজন সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) সহযোগিতা করছেন না।এ নিয়ে দফায় দফায় অভিযোগ করেছে তদন্ত সংস্থা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক মন্ত্রিপরিষদকে ডিসিদের অসহযোগিতার কথা  বারবার অবগত করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত কাজে সহযোগিতার জন্য ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিভাগীয় কমিশনারদের সমন্বয় সভায় জানানো হয়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা, ধর্ষণ, ধর্মান্তরিত করা, ঘর-বাড়ি লুণ্ঠন অগ্নিসংযোগ ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্ত কাজে সহায়তা দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক বারবার তাগিদ দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং মাঠ প্রশাসনকে। তাগাদা সত্ত্বেও অনেক জেলা প্রশাসক এখনও এ সম্পর্কিত তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে পাঠায়নি। এ জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ‘১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্ত কাজে সহায়তা প্রদানের জন্য বিভাগীয় কমিশনাররা সহায়তা প্রদান করবেন।’ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সকল বিভাগীয় কমিশনার এই সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে যথাযথভাবে পালনে সচেষ্ট থাকার কথা জানিয়েছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং ডিসিদের সহযোগিতার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াদ-আল-মালুম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রেই আমরা সহযোগিতা পাই না। জেলা প্রশাসকদের চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সহযোগিতাই বেশি প্রয়োজন হয়। অনেকেই সহযোগিতা করেন না। কেউ কেউ অসহযোগিতাও করেন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত সংস্থার অপর এক সদস্য জানান, ‘অনেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সহযোগিতা করেন না। কারণ তারা নিজেরাই জামায়াতের লোকজনের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রাখেন। তাহলে সহযোগিতা পাবো কিভাবে? সাতক্ষীরায় সহযোগিতা তো পাইনি। উল্টো অসহযোগিতা পাওয়া গেছে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কারও কারও কাছ থেকে।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. নূর-উর-রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সহযোগিতা দিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার জিএম সালেহ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তদন্ত সংস্থার প্রতিনিধিদল আসলে বিশেষ নিরাপত্তাসহ নিরাপদে থাকা এবং নিরাপদে চলার জন্য গাড়ির ব্যবস্থাসহ আনুসঙ্গিক সহযোগিতা করছি। এ বিষয়ে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

বর্তমানে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী জেলাসহ বেশ কিছু জেলায় তদন্ত সংস্থা মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তে নেমেছে। সাতক্ষীরা জেলার তদন্ত শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

/এসএ/এপিএইচ/

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় গ্রেফতার ২ জঙ্গি: গ্রেনেডের চালান নিয়ে উদ্বেগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর!

 

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
‘শেখ হাসিনার সরকার চুক্তি করেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বারোটা বাজিয়েছে’
‘শেখ হাসিনার সরকার চুক্তি করেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বারোটা বাজিয়েছে’
সেই নেতাকে ছেড়ে দিলো পুলিশ, শেল্টার দিচ্ছে কে?
সেই নেতাকে ছেড়ে দিলো পুলিশ, শেল্টার দিচ্ছে কে?
দাবি-দাওয়া নিয়ে ঘেরাও না হোক, স্মারকলিপি দিয়ে চা খেয়ে যান: আইনমন্ত্রী
দাবি-দাওয়া নিয়ে ঘেরাও না হোক, স্মারকলিপি দিয়ে চা খেয়ে যান: আইনমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
মৃত্যুদণ্ডে ফাঁসির বদলে ইনজেকশনের আবেদন, সুপ্রিম কোর্টের ‘না’
মৃত্যুদণ্ডে ফাঁসির বদলে ইনজেকশনের আবেদন, সুপ্রিম কোর্টের ‘না’
ব্যাংকের বাইরে টাকা জমানোর নতুন সুযোগ, ১০ শতাংশ বরাদ্দ শুধু ব্যক্তিদের 
ব্যাংকের বাইরে টাকা জমানোর নতুন সুযোগ, ১০ শতাংশ বরাদ্দ শুধু ব্যক্তিদের 
প্রেম নাকি পরিবারের পছন্দে বিয়ে—কোনটিতে ভালোবাসা বেশি? গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য
প্রেম নাকি পরিবারের পছন্দে বিয়ে—কোনটিতে ভালোবাসা বেশি? গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য
চার দেশের বাংলাদেশি প্রবাসীদের সতর্ক করলো দূতাবাস 
চার দেশের বাংলাদেশি প্রবাসীদের সতর্ক করলো দূতাবাস 
তারেক রহমান ভারত না এলে যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে: সাবেক কূটনীতিক
তারেক রহমান ভারত না এলে যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে: সাবেক কূটনীতিক