প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী বিপজ্জনক রাসায়নিকের ৯টি কনটেইনার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্দরে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা এসব বিপজ্জনক কেমিক্যাল অপসারণের প্রথম ধাপে শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে ৯ কনটেইনারে ১৫০ টন বিপজ্জনক মিথানল, নাইট্রিক এসিড ও থিনার জাতীয় পণ্য নিয়ে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয় কাভার্ডভ্যান।
বিপজ্জনক এসব পণ্য নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।
চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ আইনি এবং প্রশাসনিক জটিলতা শেষে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা ৯ কনটেইনার বোঝাই ভয়ংকর কেমিক্যাল ধ্বংসের জন্য সরিয়ে নেওয়া হলো। চট্টগ্রাম বন্দরে আগুনের পাশাপাশি বিস্ফোরণ ঝুঁকিতে ফেলছিল মেয়াদোত্তীর্ণ এসব কেমিক্যাল। বিদেশ থেকে আমদানি করা এসব কেমিক্যাল আমদানিকারক ছাড় না করায় বন্দরের ইয়ার্ডেই বছরের পর বছর পড়েছিল।
ধ্বংসের জন্য নিয়ে যাওয়া কনটেইনারগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫ কনটেইনার মিথানল, ১ কনটেইনার সালফিউরিক এসিড, ১ কনটেইনার নাইট্রিক এসিড এবং ২ কনটেইনার থিনার। ১৫ থেকে ২০ বছর আগে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে এসব কেমিক্যাল। কিন্তু মামলাসহ নানামুখী জটিলতায় এসব কেমিক্যালের খালাস আটকে যায়। এমনকি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় নিলামেও বিক্রি করা যায়নি।
ধ্বংসের জন্য নিয়ে যাওয়া এসব রাসায়নিকের মধ্যে রয়েছে— শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে বিদেশ থেকে আমদানি করা ২৫ মেট্রিক টন সালফিউরিক এসিড, ৫০০ কেজি নাইট্রিক এসিড, ৯২ মেট্রিক টন মিথানল এবং ৩২ মেট্রিক টন থিনার।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিপজ্জনক ৯টি কনটেইনার ভর্তি ১৫০ টন রাসায়নিক শনিবার সকালে নিয়ে যাওয়া হয় নারায়ণগঞ্জের ওয়াটা কেমিক্যালসের কারখানায়। সেখানেই ধ্বংস করা হবে মেয়াদোত্তীর্ণ এসব রাসায়নিক। এসব রাসায়নিক বন্দরের নিরাপত্তার জন্য হুমকি ছিল।’
তিনি জানান, এ ধরনের আরও রাসায়নিক বন্দরে ড্রাম ভর্তি থাকতে পারে। মামলাসহ নানা কারণে কাস্টমস চাইলেও ধ্বস করতে পারে না।