অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর এবার বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রেখে ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ডিএপি বা ড্যাপ) তৈরি করছে রাজউক। এ জন্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা রীতিমত দৌড়ঝাঁপ করছেন নগরজুড়ে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কখনও নগরবাসীর সঙ্গে মত বিনিময়, কখনও কর্মকর্তাদের সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন চলছে। কর্মকর্তাদের দাবি, অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার সময়োপযোগী ড্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, কতিপয় প্রভাবশালী প্রকৃত জলাশয়ের শ্রেণি পরিবর্তন করে নিজেদের ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাজউককে বলেছি, প্র্যাকটিক্যালি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে যেন ড্যাপ প্রণয়ন করা হয়। এবার অফিসে বসে ড্যাপ করলে চলবে না। আগে যা হওয়ার হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আগে অফিসে বসে ড্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ কারণে বসতবাড়ি কিংবা কলকারাখানাও জলাশয়ে দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ভোগান্তি দেখা দেয়। এসব বিবেচনা করে এবার বাস্তবসম্মত পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজউক চেয়ারম্যান এম. বজলুল করিম চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন মাঠপর্যায়ে ড্যাপ প্রণয়নের কাজ চলছে। কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন। বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে আমিও যাবো।’
এবার ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ডিএপি বা ড্যাপ) প্রণয়ন হচ্ছে ২০১৬ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ২০ বছরের জন্য। এর আগে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় রাজউক রিভাইজড ঢাকা স্ট্রাকচার প্ল্যান (২০১৬-২০৩৫) প্রণয়ন করেছে। ২০১৫ সালের মার্চে শুরু হয়েছে নতুন ড্যাপ প্রণয়ন কার্যক্রম। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ড্যাপ চূড়ান্ত হবে। নতুন ড্যাপ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরনোটা বাতিল হয়ে যাবে।
ড্যাপের পরিচালক ও রাজউকের নগর পরিকল্পনা শাখার উপরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ড্যাপকে সময়োপযোগী করতে আমরা ধারাবাহিকভাবে ড্যাপ আওতাধীন এলাকায় সরেজমিন যাচ্ছি। পুরনো কিংবা নতুন ঢাকা এবং নগরীর বাইরেও যাচ্ছি। প্রতিটি এলাকার বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলছি। তাদের মতামত নিচ্ছি। তারা যে মতামত রাখছেন তার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছি। তিনি বলেন, নগরবাসী যেভাবে চাইছে সেভাবে ড্যাপ প্রণয়ন করতে চাইছি।
জানা গেছে, স্ট্রাকচার প্লান (১৯৯৫-২০১৫) এর পলিসির আলোকে রাজউকের আওতাধীন ১৫২৮ বর্গ কিলোমিটার (৫৯০ বর্গমাইল) এলাকাব্যাপী প্রণীত ড্যাপ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ২০১০ সালের ২২ জুন।এই ড্যাপের মেয়াদ ধরা হয় ২০১০ থেকে ২০১৫।
দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেছেন, রাজউকের প্রথম ড্যাপ ছিল অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতা বিবর্জিত। এ কারণে তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ড্যাপ বিশদভাবে পর্যালোচনা করে চূড়ান্তকরণের জন্য ২০১০ সালের ২৭ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাতজন মন্ত্রীকে নিয়ে একটি ‘মন্ত্রিসভা’ কমিটি করে দেয়। এই কমিটিকে ড্যাপ রিভিউ কমিটিও বলা হয়ে থাকে।
জানা গেছে, ড্যাপ গেজেট আকারে প্রকাশের পর বিভিন্ন ব্যক্তি/প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় থেকে ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত প্রস্তাবনা পুনর্বিবেচনার জন্য ২১৪৭টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৫২৫টি আবেদন মন্ত্রিসভা কমিটিতে উত্থাপন হলে কমিটি ১১১টি আবেদন অনুমোদনের বিষয়ে সুপারিশ করে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, ড্যাপ সংশোধন পর্বটি ফলদায়ক না হওয়ায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নতুন ড্যাপ প্রণয়ণের কাজ শুরু করে দেয়। কাজের সুবিধার জন্য পুরনো ড্যাপের মেয়াদকাল ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।
জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর ড্যাপ পর্যালোচনা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। সে অনুযায়ী এ কমিটিতে রয়েছেন, এলজিআরডি মন্ত্রী (আহ্বায়ক), গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, পানিসম্পদমন্ত্রী, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী, নৌপরিবহনমন্ত্রী এবং ভূমিমন্ত্রী। সহায়তাদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে রাখা হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের।
কমিটির কার্যপরিধি হিসেবে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শ, ওয়েবসাইট ও অন্যান্য মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত মতামত এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের মতামত পর্যালোচনা করে রাজউক প্রণীত ড্যাপ চূড়ান্ত করবে এই কমিটি।
/ওএফ/টিএন/
আরও পড়ুন:
শক্তিশালী মোদির পক্ষে মমতাকে বাগে আনা আগের থেকে সহজ








