বস্তিতে বসবাসকারী বিশাল জনগোষ্ঠী আশ্রয়হীনতার হুমকিতে এবং নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পদ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে। তাদের পুনর্বাসনে বিকল্প আবাসন ব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ ও গৃহায়ন প্রকল্পসহ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পুনর্বাসন না করে কাউকে উচ্ছেদ করা ঠিক হবে না। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত সম্মেলনে একথা বলেন বক্তারা।
শনিবার (১৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে এ সম্মেলনের বিষয় ছিল ‘সমতার শহর নির্মাণ: আবাসন ও জীবিকার অধিকারের সুরক্ষা’। এর প্রথম সেশনে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন এবং দ্বিতীয় সেশনে স্থপতি মোবাশ্বের হোসাইন সভাপতিত্ব করেন। তৃতীয় সেশনের মডারেটর ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন।
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নিরাপদ জীবিকা এবং বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘দরিদ্রদের জন্য আমরা নিরাপদ বাসস্থান ব্যবস্থা করতে পারিনি। এখানে বৈষম্য বিরাজ করছে। এ বৈষম্য দূর করতে হবে।’
স্থপতি মুবাশ্বের হোসাইন বলেন, ‘বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া মানুষের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা ঠেকানো যাবে না। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করলে মানুষ আর শহরে বসবাস করতে চাইবে না।’
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এদিনের সম্মেলনে ১৭টি সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম— দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন, পুনর্বাসনে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, নগর দরিদ্রদের আবাসনের জন্য জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, দরিদ্রদের জন্য ভূমি বরাদ্দ প্রক্রিয়া সহজ করা প্রভৃতি।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম, স্থপতি ইকবাল হাবীব, স্থপতি সালমা এ শাফি, অ্যাসোসিয়েশন ফর রিয়েলাইজেশন অব বেসিক নিডস-এর সমন্বয়ক কামাল উদ্দিন, নগর দরিদ্র বস্তিবাসী উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা আক্তার, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) নগর প্রকল্প বিশেষজ্ঞ আশেকুর রহমান, অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান, আইন কমিশনের সিনিয়র রিসার্চার অ্যান্ড ট্রানস্লেশন অফিসার ফাতেমা জাহান শামা, তথ্য কমিশনার নেপাল চন্দ্র সরকার প্রমুখ।
সম্মেলনে বলা হয়, গত ১৬ মার্চ রাতে মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাজারখানেক ঘরবাড়ি পুড়ে যায়। গত এক বছরে কড়াইল বস্তিতে এ নিয়ে তিনবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো। কে বা কারা এ অগ্নিকাণ্ড ঘটাচ্ছে বা এই অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ কী তা এখনও রহস্য।
/ওএফ/জেএইচ/








