সময়ের প্রেক্ষিতে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত কারণে আহত ও নিহত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ বিষয়ে একটি জাতীয় মানদন্ড প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু। ক্ষতিপূরণ বিষয়ে জাতীয় মানদণ্ড নির্ধারণে বাস্তবসম্মত প্রস্তাবনা বা সুপারিশ পেলে মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি জাতীয় মানদণ্ড নির্ধারণে সরকার উদ্যোগ নিতে পারে বলেও তিনি জানান।
মঙ্গলবার (২১ মার্চ) রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে ‘কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত কারণে আহত ও নিহত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ বিষয়ে জাতীয় মানদণ্ড’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ।
শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনও নিয়ম নেই। বেসরকারি কলকারখানায় নিয়োজিত শ্রমিকদের দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ দেবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে সরকার তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করবে।’
মতবিনিময় সভায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী জানান, শতভাগ রফতানিমুখী গার্মেন্টে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রীয় তহবিল এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে সরকার। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য প্রোভিডেন্ট ফান্ড খোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ডাকঘরের মাধ্যমে শ্রমিকরা ১৫-২০ বছর মেয়াদী প্রোভিডেন্ট ফান্ডের হিসাব খুলতে পারবেন।
জানা গেছে, শ্রমিক ১০০ টাকা জমা করলে সরকারও সমপরিমাণ টাকা জমা দেবে। মেয়াদ শেষে লাভসহ যে টাকা হবে সরকার তার সঙ্গে আরও ২ লাখ টাকা যোগ করে শ্রমিককে প্রদান করবে। তবে মেয়াদ পূর্তির পূর্বে শ্রমিক মারা গেলে সমুদয় অর্থ পাবে তার স্বজনরা। প্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকরা দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করলে কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা ৩ লাখ আর বীমা বাবদ ২ লাখসহ মোট ৫ লাখ টাকা পাবে তার পরিবার।
ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনায় হতাহত শ্রমিকের পরিবারের সুরক্ষার বিষয়টিও ক্ষতিপূরণের আওতায় আনাসহ ৮ দফা সুপারিশ উপস্থাপন করা হয় মতবিনিময় সভায়। কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ ও সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ। এ আয়োজন সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বিলসের যুগ্ম মহাসচিব ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান।
জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ডা. এএমএন আনিসুল আওয়াল, বিলসের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রায় রমেশ চন্দ্র, ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আমিনুল হক আমিন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন এবং আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল।
/এসআই/জেএইচ/








