রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যেখানে আছে ছাত্র ও শিক্ষক। রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক, যেখানে আছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ। রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, তৈরি পোশাক ও পাটজাত পণ্যসহ রফতানিমুখী সরকারি ও বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান। উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের বিভিন্ন সামগ্রীর চিত্র তুলে ধরতে আয়োজিত বিশেষ মেলাতে দেখা গেছে এসব পণ্য ও সেবার সম্মিলন।
ঢাকায় শুরু হওয়া ইন্টার-পার্লামেন্টারিয়ান ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৩৬তম অ্যাসেম্বলি উপলক্ষে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি) এ মেলার আয়োজন করেছে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনের (বিআইসিসি) পাশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার স্থানে ক্ষুদ্র পরিসরে চলছে এই মেলা। শনিবার (১ এপ্রিল) বিকালে মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। পরে তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি জানান, আইপিইউ সম্মেলন উপলক্ষে আগত অতিথিসহ বিশ্বের কাছে কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরতেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মেলায় চারটি প্যাভিলিয়নসহ ৫৯টি স্টল রয়েছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
মেলার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানকার খামারে উচ্চ ফলনশীল ধানের চাষ করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ঘরের আদলে নির্মিত প্রতীক স্কুলে গিয়ে কয়েকজন ছাত্র ও শিক্ষককে দেখা গেছে। তারা রাজধানীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী।
এছাড়া মেলায় শাইনপুকুর সিরামিকস, বেক্সিমকো ওষুধ কোম্পানি, বনানী টেক্সটাইল, ওয়ালটন ছাড়াও আইসিটি, চামড়া শিল্প, প্লাস্টিক কোম্পানিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দোকান রয়েছে। রয়েছে খাবার দোকানও। এসব দোকানে বেচাকেনার সুযোগও রয়েছে।
মেলার উদ্বোধনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আইপিইউ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্মেলন। সম্মেলকে কেন্দ্র করে আমরা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, রপ্তানি খাত সমৃদ্ধ হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন হচ্ছে। এসব চিত্র আমরা এখানে তুলে ধরব। মোট কথা, বাংলাদেশকে তুলে ধরতেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সিরামিক, ওষুধ কোম্পানি, হারিয়ে যাওয়া পাটপণ্য, কাঠশিল্প, পোশাক শিল্পের বিভিন্ন কোম্পানির স্টল রয়েছে। বিদেশিরা যখন এই মেলা প্যান্ডেলে আসবেন, তারা মুগ্ধ হবেন। স্বাধীনতার পর একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের যে উন্নয়ন তা আমরা এই মেলার মাধ্যমে তুলে ধরব। এই মেলায় কেনাবেচার সুযোগ রয়েছে। প্রথম দিনে ১০ লাখ টাকার বেচাকেনা হয়েছে।’
আইপিইউ সম্মেলন চলবে ১ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত। এই পাঁচ দিন ধরেই বিশেষ উন্নয়ন মেলা চলবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। সংসদ সদস্যদের পক্ষে ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম মেলার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশ যে বিভিন্ন দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে আগতদের জানান দেওয়ার জন্য এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান সরকারের উপ-সচিব ও মেলার দায়িত্বে থাকা মো. আবদুর রউফ। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘এই মেলার প্রধান উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে তুলে ধরা (শোকেজ ইন বাংলাদেশ)। বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, শিক্ষা-সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের উন্নতি ঘটছে, দেশ ডিজিটাল হচ্ছে। দেশের উন্নয়নের এসব চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার জন্যই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।’
/ইএইচএস/টিআর/








