মেধাবীরা কেন বিপদে যাচ্ছে এ প্রশ্ন তুলে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানি ছাড়া সব আসামি মেধাবী শিক্ষার্থী। তারা কেন বিপথে গেলেন? এ মামলার মধ্যে আমরা তা খুঁজে পাইনি। তবে বিপথে যাওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে।’
রবিবার ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্টের আপিল বিভাগ। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আসামিদের আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চ আগের রায় বহাল রাখলেন।
আদালত বলেন, ‘এ ধরনের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিপদে যাওয়ার জন্য অভিভাবকরাই দায়ী। এ মামলায় দেখা গেছে, প্রত্যেক আসামির অভিভাবকরা উচ্চ শিক্ষিত এবং প্রভাবশালী। আমরা বর্তমান সময়ে নিজেদের লাইফস্টাইল কিভাবে উন্নত করা যায় সেটা নিয়েই ব্যস্ত থাকি। কিন্তু আমাদের সন্তানদের মানসিক অবস্থার কথা, তারা কি করতে চায়, কোন বিষয়ে পড়াশোনা করতে চায় সেগুলো না জেনেই মনের বিরুদ্ধে যে কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেই।’
রায়ে রাজীব হত্যার দায়ে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও ফয়সাল বিন নাঈম ওরফে দীপের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।
বিচারিক আদালতের পুরো রায়ের সঙ্গেই একমত হয়ে রায় দেওয়ায় মাকসুর হাসান অনিকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড বহাল রয়েছে। একইসঙ্গে বহাল রয়েছে প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া আনসারুল্লা বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীমউদ্দিন রাহমানির ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং আসামি সাদমান ইয়াছির মাহমুদের ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ডও বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।
/এমটি/ইউআই/এসটি/
আরও পড়ুন: ব্লগার রাজীব হত্যা মামলা: দুজনের ফাঁসির রায় বহাল
খণ্ডিত রায় বলে প্রত্যাখ্যান রাজীবের বাবার








