রাজধানীতে জঙ্গিরা যেন নতুন করে আস্তানা গড়ে তুলতে না পারে সে জন্য আবারও তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ। বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ ছাড়াও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুরনো ভাড়াটিয়ার তথ্য নেওয়ার পাশাপাশি নতুনদের তথ্য নিয়েও দ্রুত পুলিশকে দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। একইসঙ্গে জঙ্গি ইস্যুতে বাড়িওয়ালা ও দারোয়ানদের সতর্ক থাকতেও বলে দেওয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। নাহলে যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য বাড়িওয়ালাকেই দায়ী থাকতে হবে বলে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বাড়ির গেটে কয়েকটি নির্দেশনা সংবলিত একটি ছোট নোটিশ বোর্ডও লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রম ছাড়াও জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণার অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা নিজ উদ্যোগেই আরও কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছেন। যেন কোনোভাবেই রাজধানীতে জঙ্গিরা আস্তানা গড়ে তুলে জনজীবনকে হুমকির মুখে ফেলতে না পারে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ার পর দেখা যায় জঙ্গিরা ছদ্ম পরিচয়ে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও মেসে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকছে। গড়ে তুলছে জঙ্গি আস্তানা। নাশকতা শেষে পালিয়ে গেলেও তাদের আর কোনও হদিস পাওয়া যায় না। বাড়িওয়ালারাও ওইসব ভাড়াটিয়া সম্পর্কে কোনও তথ্য দিতে পারেন না।
জঙ্গিবাদসহ মহানগরীতে অপরাধ দমনে প্রথমে ২০১৩ সালের শুরুর দিকে রাজধানীর ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের তথ্য সংগ্রহে নেমেছিল ডিএমপি। মাঝপথে সেটা বন্ধ হয়ে গেলেও ২০১৫ সালের শেষের দিকে আবারও প্রক্রিয়াটি শুরু করে ডিএমপি। বর্তমানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ কাজটি করছেন মহানগরীর বিভিন্ন থানা পুলিশ।
ডিএমপি’র বিভিন্ন থানার ওসিরা নিজ-নিজ এলাকার মসজিদগুলোতে গিয়ে প্রতি জুমার নামাজের আগে বক্তব্য দিয়ে জঙ্গিবাদবিরোধী বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জঙ্গি দমনে পুলিশ সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। তারপরও আনাচে-কানাচে কে, কোথায়, কীভাবে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়ে যাচ্ছে, তার সব তথ্য আমরা পাচ্ছি না। পাশের ফ্ল্যাটে কী হচ্ছে, সেই খবরও আমরা রাখছি না। প্রত্যেকের উচিত পাশের ফ্ল্যাটে কী হচ্ছে, নজরদারি করে পুলিশকে জানানো।' এলাকার সব মসজিদে গিয়ে জুমার নামাজের আগে মহল্লাবাসীর উদ্দেশে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান বলেও উল্লেখ করেন জামাল উদ্দিন মীর।
ডিএমপি’র রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার নিজ উদ্যোগে জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রতিটি বাড়ির গেটে কয়েকটি নির্দেশনা লিখে নোটিশ বোর্ড টানিয়ে দিয়েছেন। ‘ভাড়াটিয়াদের তথ্য দিন’ শিরোনামে ওই নোটিশ বোর্ডে লেখা রয়েছে, ‘পরিচয় না জেনে বাসা ভাড়া দেবেন না। নতুন ভাড়াটিয়ার তথ্য পুলিশকে অবহিত করুন। ভাড়াটিয়া পূর্বে কোন বাসায় ছিল, সে তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশকে জানান।’
এ বিষয়ে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জঙ্গিবাদবিরোধী কিছু কার্যক্রম নির্দিষ্ট করা আছে। এছাড়া এর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষসহ বাড়িওয়ালা ও দারোয়ানসহ সবাইকে সচেতন রাখার জন্য এই নোটিশ বোর্ড তার বিভাগের সব বাড়িতে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভাড়াটিয়াদের তথ্য হালনাগাদসহ গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।’
ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে এই বিষয়ে বলেন, ‘জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার জন্য প্রচার-প্রচারণার কোনও বিকল্প নেই। এই প্রচারণা যেমন চলছে, তেমনি গোয়েন্দা নজরদারিও চলছে। সাধারণ নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে যা-যা করণীয়, তার সবই করছে পুলিশ। জঙ্গিরা যেন রাজধানীতে আস্তানা গড়ে তুলতে না পারে, সে জন্য ভাড়াটিয়াদের তথ্য নিয়ে সার্বক্ষণিক হালনাগাদ করার কাজ অব্যাহত আছে। এ কার্যক্রম চলতে থাকবে।’ ভাড়াটিয়াদের সংগ্রহ করা তথ্য আবার জাতীয় পরিচয়পত্র বিভাগে যাচাই-বাছাই করা হয় বলে তিনি জানান।
/এমএনএইচ/এফএস/
আরও পড়ুন-
প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর: পানি নিয়ে ‘ঘোলা জল’ পরিস্থিতি








