কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত কওমিপন্থীরা। কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা এই স্বীকৃতির ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনিন্দন জানিয়েছেন। সনদের স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে কওমিপন্থীদের সঙ্গে সরকারের টানাপড়েনের অবসান ঘটবে বলেও মনে করছেন তারা।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চরমোনাইপীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইপীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘দেশের ওলামা-মাশায়েখ ও কওমি মাদ্রসারা ছাত্রদের দীর্ঘদিনের দাবি কওমি মাদ্রসারা স্বীকৃতি। বিষয়টি নিয়ে অতীতে বিভিন্ন সরকার নোংরা রাজনীতি করেছে। কওমি ছাত্রদের তাদের অধিকার ও সম্মান থেকে বঞ্চিত করেছে। কওমি মাদ্রসার শিক্ষা যে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক শিক্ষা, বিষয়টির অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী কওমি সনদের স্বীকৃতি দিয়ে সময়োপযোগী ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছেন।’
হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারের ইসলামিবিরোধী কার্যকলাপের যেমন সমালোচনা করেছি, তেমনি ভালো উদ্যোগের প্রশংসাও করব। দীর্ঘ দিনের দাবি কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি, সেটি সরকার করেছে। এ জন্য সরাকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে।’
কওমি সনদের স্বীকৃতির ফলে দেশের লাখ লাখ কওমি শিক্ষার্থী উপকৃত হবে বলে মন্তব্য করেন খেলাফতে ইসলামীর আমির ও ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সনদকে স্বীকৃতি দিয়ে লাখ লাখ কওমি মাদ্রসার ছাত্র শিক্ষকের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। তার দীর্ঘায়ু কামনা করছি।’
এ প্রসঙ্গে জাতীয় তাফসির পরিষদ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতির কওমি অঙ্গনের জন্য বড় অর্জন। দেশের শীর্ষ আলেমদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি সনদের স্বীকৃতি দিয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবেন। তার এ ঘোষণা আলেমদের মধ্যে আশার আলো সঞ্চার করছে। দেশের শীর্ষ আলেমদের গণভবনে দাওয়াত দিয়ে সম্মান দেখানোটাও প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রশসংনীয় উদ্যোগ।’
জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের আহ্বায়ক নূরুল হুদা ফয়েজী বলেন, ‘এই প্রশসংনীয় কাজের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাই। মাদ্রাসা শিক্ষা একটি নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে। মাদ্রাসার শিক্ষার প্রসার ঘটবে।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াস আতহারী বলেন, ‘ইসলামী ছাত্র সমাজ ১৯৮০ সাল থেকে এদেশের কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদের স্বীকৃতির জন্য আন্দোলন করে আসছিল। আমরা আশা করছি, দেশে ইসলামি শিক্ষার সম্প্রসারণ ও প্রসার আরও এগিয়ে যাবে সরকার।’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) রাতে গণভবনে কওমিপন্থী আলেমদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ক্লাস দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান ঘোষণা করেন। গণভবনে হেফাজতে ইসলামের আমির ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে প্রায় ৩০০ জন আলেম এ বৈঠকে অংশ নেন।
/এমএনএইচ/







