'আমরা ঘরে বসে থাকলে অপশক্তির জয় হবে'

জাকিয়া আহমেদ, রমনা বটমূল থেকে
১৪ এপ্রিল ২০১৭, ০৮:২৬আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০১৭, ১৪:৫৭

রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সারিবদ্ধ হয়ে প্রবেশ করছেন দর্শক ও শ্রোতারা রমনার বটমূলে প্রতি বছরের মতোই শুরু হয়েছে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আর এ নিরাপত্তায় সন্তুষ্ট দর্শক ও শ্রোতারা। শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টায় রমনার বটমূলে সেতার-সরোদ-তবলার লহরীতে পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নেন ছায়ানটের শিল্পীরা। মানুষজন ভয় পেয়ে নববর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ না দিলে অপশক্তির জয় হবে বলে মনে করছেন তারা। 

'আমরা ঘরে বসে থাকলে অপশক্তির জয় হবে' রমনা বটমূলে অনুষ্ঠান দেখতে এসেছেন সাজিদুর রহমান নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা। সঙ্গে বাবা নেসার হোসেন, স্ত্রী ফারহানা নাজনীন, ছেলে সাফল্য এবং মেয়ে সমৃদ্ধিকে নিয়ে এসেছেন। বটমূলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অন্যবারের তুলনায় এবারের নিরাপত্তা অনেক ভালো। সবাই অনেক বেশি সতর্ক। এমনকি সাধারণ মানুষও বেশি সতর্ক। 

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পহেলা বৈশাকে ছায়ানটের অনুষ্ঠান ছাড়া অন্য কিছু চিন্তা করতে পারতাম না। তবে মেয়ের জন্মের প্রথম বছর এখানে আসতে পারিনি। এরপরের বছর থেকে প্রতিবছরই  মেয়েকে নিয়ে এখানে এসেছি। এমনকি ছেলের জন্মের কয়েক মাস পরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে এসেছিলাম।’

'আমরা ঘরে বসে থাকলে অপশক্তির জয় হবে' ভয় লাগছে কিনা- প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভয় লাগছে না, কখনোই ভীত ছিলাম না। যারা আমাদের ভয় দেখাতে চায় সেই অপশক্তির ভয়ে যদি আমরা ঘরে বন্দি থাকি তবে তাদের জয় হবে, আমাদের পরাজয় হবে। ঘরে বসে থেকে মৌলবাদী শক্তিকে জয়ী হতে দিতে পারি না।’

সাজিদুর রহমানের বাবা নেসার হেসেন বলেন, ‘সবাই এখন অনেক সতর্ক। এখানে সিসিটিভি রয়েছে। সুতরাং ভয় পাওয়ার প্রশ্নই আসে না।’

রমনা বটমূলে উপস্থিত মুক্তিযুদ্ধ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ফাহমিদুল হক বলেন, ‘আমাদের যে ভয় দেখানো হচ্ছে এটাই দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের বৈশাখের এ উৎসব সার্বজনীন আনন্দ উৎসব। ধর্মের সঙ্গে এ উৎসবের কোনও ফারাক নেই। সুতরাং এটা কখনই আমাদের জন্য বাধা হতে পারে না।’

'আমরা ঘরে বসে থাকলে অপশক্তির জয় হবে' আমেরিকা থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রথমবারে মতো বাংলাদেশে সপরিবারে এসেছেন দীপক কুমার দে ও তার স্ত্রী সপ্না রানী দে। তারা বলেন, ‘এতোদিন টিভিতে আমেরিকায় বসে এ অনুষ্ঠান দেখেছি। গত ৩ এপ্রিল এ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশে এসেছি।’

এছাড়ও দিপালী ঘোষ নামের এক গৃহিনী তার ছেলে আগ্নিক ও মেয়ে আদৃতাকে নিয়ে এসেছেন রমনা বটমূলে। তিনি বলেন, ‘ভয় পাই না, ভয়ে ঘরে বসে থাকি না। তাই কেউ যেন ভয়ে ঘরে বসে না থাকে।’

/জেএ/এসএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
এবার পল্লবীতে মিললো আরেক নারীর গলিত মরদেহ
এবার পল্লবীতে মিললো আরেক নারীর গলিত মরদেহ
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম