‘বিনা পয়সায় পান্তা-ইলিশ, তাও আবার রাজধানীতে। আট বছরেও কোনোদিন ভালো খাবার কিনতে পারিনি। আজ আর ভালো খাবার কিনতে না পারার কোনও কষ্ট নেই’— একটানা কথাগুলো বলে চোখ মুছতে শুরু করেন আলমগীর (ছদ্মনাম)।
স্বামীহারা ৪০ বছরের নারী সখিনা (ছদ্মনাম) তার ১১ বছরের শিশুসন্তানকে ইলিশ খাওয়াতে পেরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে তিনি বলেন, ‘ওর বাবার মৃত্যুর পর থেকে ওকে ইলিশ কিনে খাওয়াতে পারিনি।’
শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার দিলু রোড পানির পাম্পের সামনে পথশিশুদের পান্তা-ইলিশ আয়োজনে যোগ দেওয়া দুই ছিন্নমূল মানুষের এই আনন্দাশ্রু মেশানো মুহূর্তটি দেখা গেলো বাংলা নববর্ষের পহেলা বৈশাখে।
এখানে দিনাজপুর অঞ্চল থেকে আসা দৈনিক হাজিরায় কাজ করা আলমগীর ও ভোলার নদীভাঙনের শিকার স্বামীহারা সখিনা খেতে বসে যান পথশিশুদের সঙ্গে। খাওয়ার পর তাদের আনন্দ দেখে কৌতূহল তৈরি হয়। তবে শুরুতে কথা বলতে চাননি তারা।
পরে আলমগীর জানালেন, দিনাজপুর থেকে আট বছর আগে ঢাকায় এসেছেন তিনি। পাশেই বসা নিজের সন্তানকে কাঁটা বেছে খাওয়াতে দেখা গেলো সখিনাকে। তখন তার খাওয়া শেষ। সবার খাওয়া শেষ হলে কথা হয় পান্তা-ইলিশ আয়োজকদের সঙ্গে।
সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগের সংগঠন ‘সমমনায় আমরা, মানবতায় আমরা’ ফেসবুক পেজের ফলোয়ারদের সমন্বয়ক মনিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফেসবুক বন্ধুদের সহযোগিতায় আমরা পথশিশুদের পান্তা-ইলিশ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছি। পথশিশুসহ ছিন্নমূল প্রায় ১০০ জনকে ইলিশ খাওয়াতে পেরে ভালো লাগছে। দরিদ্র ছিন্নমূল পথশিশুদের লেখাপড়া ও তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
এই উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে অনুষ্ঠানে যোগ দেন ‘সমমনায় আমরা, মানবতায় আমরা’ সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক ও নাট্যশিল্পী আদিত্য আলম, সংগীতশিল্পী আরজুমান্দ আরা বকুল, অভিনেতা রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক মহসীনুল করিম লেবু ও ফেসবুক পেজের বন্ধুরা।
/জেএইচ/








