রাজধানীর সেগুনবাগিচার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রজ্জ্বলিত ‘শিখা চিরঅম্লান’ থেকে জ্বালানো অগ্নিমশাল আগারগাঁওয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আগারগাঁওয়ের অবস্থিত নতুন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘শিখা চিরঅম্লান’ স্থানান্তরের জন্য এক অভিযাত্রার মাধ্যমে এ কাজটি করেন নতুন প্রজন্মের বেশ কয়েকজন।
শনিবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে ‘শিখা চিরঅম্লান’ থেকে অগ্নিমশাল জ্বালিয়ে ৭১ সদস্যের অভিযাত্রী দল আগারগাঁওয়ের দিকে রওনা দেয়। এ দলে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের সদস্যরা ছিলেন। তাদের সঙ্গ দিয়েছেন ৭১ জন সাইক্লিস্ট।
এদিন সকালে সেগুনবাগিচার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর থেকে ভাষাসৈনিক আহমেদ রফিকের নেতৃত্বে দলটি যাত্রা করে প্রথমে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যায়। সেখানে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বক্তৃতা দেন ভাষাসৈনিক আহমেদ রফিক। এরপর দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে মানিকনগর বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী।
এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধারা। এ সময় ছিলেন মেজর জেনারেল মুক্তিযোদ্ধা কে এম শফিউল্লাহ বীরউত্তম ও মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবিব।
সোহরাওয়ার্দীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের দিকে পা বাড়ায় অভিযাত্রী দলটি। তখন এর প্রতিনিধিদের মুখে দেশাত্মবোধক গান শোনা যায়। বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে শ্রদ্ধা জানিয়ে মোহাম্মদপুরের কলেজ গেটে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১-এ বসবাসরত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে পুষ্পার্ঘ্য প্রদান করা হয়।
এরপর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে গিয়ে অভিযাত্রা শেষ করেন নতুন প্রজন্মের সদস্যরা। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে পৌঁছে অগ্মিমশালটি সামনে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা জয়বাংলা স্লোগান দেন। এ সময় ভাষাসৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, রবিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘শিখা চিরঅম্লান’ প্রজ্জ্বলন করে আগারগাঁওয়ের নতুন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভবন উদ্বোধন করবেন।
/আরএআর/জেএইচ/








