সুন্দরবন রক্ষায় আগামী ২০ এপ্রিল খুলনায় উপকূলীয় মহাসমাবেশ ডেকেছে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রাজধানীর পুরানা পল্টনে কমরেড মণি সিংহ রোডের মুক্তিভবনে প্রগতি সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সব বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ থেকে এটা নিশ্চিত যে রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবনবিনাশী অপতৎপরতায় পুরো বাংলাদেশই অরক্ষিত হবে, ভয়াবহ মাত্রায় বিপদাপন্ন হবে। বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনা, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশালসহ উপকূলীয় জেলাগুলোয় ক্ষতির পরিমাণ হবে সবচাইতে বেশি। এই ক্ষতি নদীর পানি ও বায়ু দূষণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ তীব্রতর করবে, দেশের বহু অঞ্চলে আঘাত করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে গত ১০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় রামপাল প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। যৌথ প্রকল্প বলা হলেও এই ঋণের পুরো দায়ভার বাংলাদেশের ঘাড়ে চাপানো হয়েছে ‘সার্বভৌম গ্যারান্টি’ দিয়ে। এই ঋণের টাকায় যেই ভারতীয় কোম্পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে তাকেও সব রকম শুল্ক ও দায় থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।’
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সরকার একদিকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নামে ঋণের বোঝা জনগণের কাঁধে ফেলে অস্ত্র কেনার চুক্তি করছে। অন্যদিকে আরও ঋণের বোঝা জনগণের কাঁধে ফেলে বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুন্দরবন ধ্বংসের চুক্তি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এগুলো জনগণের সঙ্গে ভয়ঙ্কর প্রতারণা ও নিষ্ঠুর রসিকতা ছাড়া আর কিছু নয়। আর্থিক বোঝা, বেশি দামে বিদ্যুৎ সর্বোপরি সুন্দরবন বিনাশ করেও রামপাল প্রকল্প নিয়ে সরকারের এই ভূমিকা অবিশ্বাস্য মাত্রায় জাতীয় স্বার্থবিরোধী। আমরা সরকারের এই ভূমিকায় আবারও ধিক্কার জানাই।’
সংবাদ সম্মলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। জাতীয় কমিটির সংগঠক টিপু বিশ্বাস, রুহিন হোসেন প্রিন্স, বজলুর রশীদ ফিরোজ, জোনায়েদ সাকি, সাইফুল হক, শুভাংশু চক্রবর্তী, মোশারেফ হোসেন নান্নু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০ এপ্রিল বেলা সাড়ে ৩টায় খুলনার শহীদ হাদিস পার্কের মহাসমাবেশ সফল করার আহ্বান জানানো হয়।
/এসটিএস/এফএস/








