বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার ইকোনোমিক করিডর (বিসিআইএমইসি) উদ্যোগের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য এর যৌথ স্টাডি গ্রুপের রূপরেখা চূড়ান্ত বৈঠক হতে যাচ্ছে কলকাতায়। দীর্ঘ আড়াই বছর অপেক্ষার পর আগামী সপ্তাহে কলকাতার গ্র্যান্ড ওবেরয় হোটেলে বিসিআইএম-এর তৃতীয় ও চূড়ান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আশা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকেই বিসিআইএমইসি’র বিস্তারিত রূপরেখা ঠিক করা হবে। সরকারের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি মাসের প্রথম দিকে তার দিল্লি সফরকালে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক আঞ্চলিক জোট বাস্তবায়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ-ভারত বিসিআইএম স্টাডি গ্রুপের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় দৃঢ় করার ওপর জোর দেয়।’ দ্রুত বিসিআইএম স্টাডি গ্রুপের রিপোর্ট চূড়ান্ত করার জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীত ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিসিআইএম-এর প্রথম যৌথ স্টাডি গ্রুপের বৈঠক ২০১৩-এর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বৈঠক হয় কক্সবাজারে ২০১৪ সালে। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় ২০১৫ সালে স্টাডি গ্রুপের চূড়ান্ত বৈঠক হবে কলকাতায়। ওই বৈঠকে একটি সম্পূর্ণ রিপোর্ট তৈরি করে রাজনৈতিক নেতাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দেওয়া হবে। কিন্তু প্রায় আড়াই বছর পরে এ বৈঠকটি হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করব কলকাতা বৈঠকের পরে দুই মাসের মধ্যে গোটা বিসিআইএম প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে তা প্রতিটি দেশের রাজনৈতিক নেতাদের কাছে হস্তান্তর করতে। রাজনৈতিক নেতারা পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা তাদের ব্যাপার। কিন্তু আমরা আমাদের কাজ শেষ করে ফেলতে চাই।’
এবারের বৈঠকে বিসিআইএমএর উদ্দেশ্য কী, সচিবালয় কিভাবে হবে, এসব সিদ্ধান্ত-গ্রহণ প্রক্রিয়ার মতো প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করবেন শ্রীলংকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ। এ সময় অর্থনীতিবিদ ইনামুল হক জলবায়ু পরিবেশ নিয়ে তার প্রতিবেদন দেবেন।
এছাড়া যোগাযোগ, জ্বালানি, বিনিয়োগ ও ব্যাংকিং, বাণিজ্য, সামাজিক ও মানব উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বিষয়ে অন্য তিনটি দেশ প্রতিবেদন দেবে।
এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রস্তাবিত জোটে চীন ও ভারতের মতো দুটি আঞ্চলিক শক্তি আছে। সে কারণে এ সংস্থায় সিদ্ধান্ত কিভাবে গ্রহণ করা হবে, তার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রস্তাব করবে নীতি-নির্ধারণী ক্ষেত্রে চারটি দেশের সম্মতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু অপারেশনাল ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা তিনটি দেশের সম্মতি হলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এটি বাংলাদেশের প্রস্তাব কিন্তু আলোচনার পরই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
১৯৯৯ সালে কূটনৈতিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে কুনমিং উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। যেটি ২০১৩ সালে সরকারি উদ্যোগ হিসেবেই গ্রহণ করা হয়। এর দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালে কক্সবাজারে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা একমত হয়েছিলেন যে, ২০১৫ সালে তারা একটি প্রতিবেদন গ্রহণ করে রাজনৈতিক নেতাদের কাছে দেবেন। প্রতিনিধিরা আরও একমত হয়েছিলেন যে, তাদের প্রস্তাবিত চারটি জাতীয় পরিকল্পনার সব দিক বিবেচনা করে ২০১৫ সালের প্রথম ভাগের মধ্যে একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করবেন। ২০১৫ সালের দ্বিতীয় ভাগে ভারতে এই প্রতিবেদন গৃহীত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই বৈঠকটি যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি। ওই বৈঠকটি দীর্ঘ আড়াই বছর পর আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
২০১৪ সালে অনুষ্ঠিতে বিআইসিএম-এর দ্বিতীয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, চীনের কুনমিং থেকে ভারতের কলকাতা পর্যন্ত ২ হাজার ৪৯০ কিলোমিটার সড়ক যোগাযোগের জন্য প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী ২ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হবে। এর অর্থ সংগ্রহের জন্য একটি সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হয় সেই বৈঠকে।
/এমএনএইচ/








