মে দিবসের প্রস্তুতির দিন থেকে সকালের কর্মসূচিতেও পুলিশ একতরফাভাবে হস্তক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ রাজনৈতিক শ্রমিক সংগঠনগুলোর। তাদের দাবি, সভা-সমাবেশ করার জন্য যথাযথ পন্থায় পুলিশের কাছে অনুমতি নিতে গিয়ে সাড়া পাননি তারা। উল্টো প্রস্তুতি শুরুর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে তাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আশুলিয়ায় গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরামের মঞ্চ ভেঙে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
সোমবার (১ মে) রাজধানীতে নানান আয়োজনে দিনব্যাপী মে দিবস পালিত হলেও রাজনৈতিক দলকেন্দ্রিক শ্রমিক সংগঠনগুলোকে বেশ কয়েক জায়গায় সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, অনুমতি না থাকায় কিছু স্থানে সমাবেশ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে দাবি তাদের। তারা বলছেন, ‘কোনও ধরনের অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা দেখলে যেটুকু নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, পুলিশ সেটুকুই করেছে।’
রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, শ্রমিকদের সংগঠিত করা বা তাদের উপস্থিতিকে ভয় পেয়ে এমন বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। স্থানীয় সংগঠকদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টাও চলছে। গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরামের কর্মী শহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাভারের হেমায়েতপুর, শ্যামপুর রোডস্থ ক্লাব মাঠে মে দিবসের পূর্বনির্ধারিত শ্রমিক সমাবেশের মঞ্চ করতে দেওয়া হয়নি। এই কর্মসূচিতে সহযোগিতা চেয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনের কাছে যথাযথ নিয়ম মেনে আবেদনও করা হয়েছিল। মে দিবসের আগে সন্ধ্যায় কর্মসূচির মঞ্চ তৈরি করতে গেলে সাভার পুলিশ তা ভেঙে দেয় এবং মঞ্চ তৈরির সামগ্রী গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের হুমকিও দেওয়া হয় তখন।’
গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মে দিবস উপলক্ষে সাভারের আশুলিয়া অঞ্চলে জনসভাকে সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছে। তবে শোভাযাত্রায় বাধা আসেনি বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতা তাসলিমা আখতার। তিনি বলেন, ‘আমরা র্যা লি করেছি সফলভাবে। যদিও কর্মসূচি পালন করা যাবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা ছিল কাল থেকেই। তবে বড় আকারের সমাবেশ করা সম্ভব হয়নি, সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।’
এদিকে ঢাকার মোহাম্মদপুরে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের কর্মীদের মিছিলে পুলিশের বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পাঁচ জনের বেশি এক জায়গায় জড়ো হতে পারবে না জানিয়ে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সমাবেশ করতে বাধা দেওয়া হয় আমাদের। এএসআই শফিক নামের একজন বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকেই নাকি নিয়ম অনুযায়ী মে দিবসে পাঁচ জনের বেশি জমায়েত হওয়া যায় না!’
এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ রকম কিছু ঘটেছে বলে আমি জানি না। তবে রাস্তা আটকে সভা-সমাবেশ কিছু হতে দিতে চাই না আমরা। আমরা সব জায়গাতেই এবং যারা র্যা লি করছেন তাদের নিরাপত্তার কথাও ভেবেছি।’
এদিকে আশুলিয়ার ট্রেড ইউনিয়নকে সমাবেশ না করতে পুলিশ স্থানীয় নেতাকর্মীদের বলেছিল দাবি করে সংগঠনটির নেতা খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, ‘আমাদের থানায় ডেকে নিয়ে সমাবেশ না করতে বলা হয়েছে। কোন যুক্তিতে মে দিবসের অনুষ্ঠান করতে দেবেন না তা জানতে চাইলে থানার পক্ষ থেকে বলা হয়, আশুলিয়ায় এমনিতেই শ্রমিকদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ কাজ করছে। মে দিবসকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের আন্দোলন যেন দানা না বাঁধে, সেজন্যই অনুমতি দেবে না বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তখন বাধ্য হয়ে আমাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছি।’
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিন আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরামানুষের স্বার্থেই সবকিছু করেছি। মে দিবসের অনুষ্ঠানে যথেষ্ট নিরাপত্তা দিয়েছি। রাস্তা আটকে সভা-সমাবেশ হতে দিতে পারি না আমরা। সভা-সমাবেশের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করতে হলে অনুমতি নিতে হয়, শ্রমিক সংগঠনগুলো কি তা করেছে? নিয়ম না মেনে কেউ নিয়ম ভাঙলে নিশ্চয়ই তা সমর্থন করবে না কেউ।’
/জেএইচ/








