আগামী ২০ বছরের মধ্যেই ঢাকার চারপাশে নদী দূষণমুক্ত করা সম্ভব হবে, বলে আশা প্রকাশ করেছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। রবিবার সংসদের বৈঠকে ৭১ বিধিতে দেওয়া জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে, বিকাল পাঁচটায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। ৭১ বিধিতে দেওয়া নোটিশটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু। নোটিশে তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে বুড়িগঙ্গাকে মৃত নদী হিসেবে ঘোষণা করেছে। ঢাকা ঘিরে থাকা চার নদী শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু ও বুড়িগঙ্গার ১১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এখন শুধুই দুর্বিষহ দূষণ।’
তিনি বলেন, ‘বর্জ্য ও তরল রাসায়নিক উপাদান ফেলায় নদীর পানির রং হয়ে উঠেছে কালো, ধূসর ও গাঢ় নীল। মাত্রাতিরিক্ত দূষণে সদরঘাটে বুড়িগঙ্গার পানি কুচকুচে কালো, হাজারীবাগে রক্তের মতো লাল, তুরাগের পানি কোথাও কালো, কোথাও গাঢ় নীল। টঙ্গীর অদূরে বালু নদের পানি ধূসর বর্ণ ধারণ করেছে।’ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগামী দুই তিন বছরের মধ্যে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকার বড় ধরণের স্বাস্থ্য বিপর্যয় দেখা দিবে বলেও জানান তিনি।
নোটিশের জবাবে নৌ পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার চারপাশের নদী দূষণের ক্ষেত্রে ৬০ ভাগ শিল্প বর্জ্য এবং ৩০ ভাগ ট্যানারি বর্জ্য দায়ী। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলে ৩০ ভাগ দূষণ থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।’
নদী দূষণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন বলে জানিয়ে নৌমন্ত্রী বলেন, ‘ওই কমিটির চেয়ারম্যান এলজিআরডি মন্ত্রী এবং কো চেয়ারম্যান হচ্ছেন পানিসম্পদ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর করে দেওয়া এই কমিটি একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে। টেকনিক্যাল কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেলেই দূষণ রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
লন্ডনের টেমস নদী ও দক্ষিণ কোরিয়ার হাঙ্গার নদী দূষণ মুক্ত করতে ৬৫ থেকে ৮৫ বছর লেগেছে এমন তথ্য জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নদী খননের মাধ্যমে উজান থেকে পানি আনার চেষ্টা করছি। সেটা সফল হলে এবং টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্ট পাওয়া সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করলে আগামী ২০ বছরের মধ্যেই ঢাকার চারপাশের নদী দূষণ মুক্ত করা সম্ভব হবে।’
/ইএইচএস/এমও/








