ম্যাক্রনের বিজয়ে স্বস্তিতে ঢাকা

শেখ শাহরিয়ার জামান
১২ মে ২০১৭, ২০:৫৭আপডেট : ১৩ মে ২০১৭, ১৩:৩৫

ইমানুয়েল ম্যাক্রন ফ্রান্সের মধ্যপন্থী রাজনীতিক ইমানুয়েল ম্যাক্রন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ঢাকা। গত বছর ব্রেক্সিটের জয় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের কারণে কট্টর দক্ষিণপন্থীদের উত্থান সামনে আসে। তবে ফ্রান্সে একজন মধ্যপন্থীর বিজয়ের ফেলে আপাতদৃষ্টিতে মনে করা হচ্ছে, উগ্রপন্থীদের জয়রথ থেমে গেলো।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের মনোভাব জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের জন্য সুখকর নয় এমন তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেবে কট্টর দক্ষিণপন্থীরা। এগুলো হলো- অবৈধ অভিবাসী ফেরত, কঠিন ভিসা নীতি এবং সহযোগিতা কমিয়ে দেওয়া।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তার মতে, বিশ্বব্যাপী ফরাসি ভোটারদের অত্যন্ত সচেতন হিসেবে ভাবা হয়। সামনের দিনগুলোতে জার্মানিসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কট্টর দক্ষিণপন্থীদের জনপ্রিয়তার পেছনে সংকীর্ণ জাতীয়তাবোধ কাজ করে বলে অভিমত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তার। এর ফলে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নকে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তারা দেখে বলে মন্তব্য তার। তিনি মনে করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে কট্টর দক্ষিণপন্থীদের সবচেয়ে জনপ্রিয় অস্ত্র হচ্ছে ‘অভিবাসী তাড়াও’। এর ওপর ভর করেই ব্রেক্সিট ও ট্রাম্পের উত্থান হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, ইউরোপসহ অন্যান্য জায়গায় অর্থনৈতিক মন্দার কারণে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এ কারণে অবৈধ অভিবাসীদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশসহ সব দেশের ওপর চাপ বাড়ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের নীতি হচ্ছে, অবৈধভাবে অবস্থানরত সব বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। এজন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ মতামত জানতে চাইলে বলেন, ‘ফ্রান্সে ইমানুয়েল ম্যাক্রনের বিজয়ের মানে হচ্ছে প্রথাগত রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের অনাস্থা। কয়েক বছর আগেও তিনি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার রাজনৈতিক দল গঠন হয় দুই-তিন বছর আগে। এমন ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে বুঝতে হবে, প্রথাগত পদ্ধতির ওপর মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির আরও বলেন, “বর্তমান সরকারগুলো ‘প্রবৃদ্ধি এবং লাভ’, এ দুটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে থাকে। কিন্তু এখন এ নীতি পরিবর্তন করে সামাজিক উন্নতির প্রতি নজর দেওয়ার সময় এসেছে। নতুন এ ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বর্তমান ট্রেন্ডকে বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’

/জেএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম