গ্রিক দেবীর ভাস্কর্যের গন্তব্য কোথায়?

সালমান তারেক শাকিল
২৬ মে ২০১৭, ২৩:০০আপডেট : ২৭ মে ২০১৭, ২১:৪২

 

সুপ্রিম কোর্টের সামন থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে দেবী থেমিসের মূর্তি। ছবি: নাসিরুল ইসলাম) বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে সরিয়ে নেওয়া গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য পুনঃস্থাপন নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত আসেনি। সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে পুনঃস্থাপন করার কথা বলা হলেও আজ-কালের মধ্যে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। দুই-একদিনের মধ্যেই এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের পরিষ্কার অবস্থান জানা যাবে। তবে বৃহস্পতিবার রাতেই প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সংস্থা সরকারের উচ্চপর্যায়ে ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের বিষয়ে নিরুৎসাহিত করে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য পুনঃস্থাপন নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তের কথা আমি জানি না। এটি আমার বিষয় নয়। এটি সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার। সুপ্রিম কোর্ট ঠিক করছেন রিমুভ করার, তারাই ঠিক করবেন কোথায় এটাকে রাখতে হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বিষয়টি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সরকারের মুখপত্র হিসেবে কাজ করছেন। এটি নিয়ে আমার কোনও অবস্থান নেই।’ এর আগে শুক্রবার সকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের সামনে স্থাপিত গ্রিক ভাস্কর্য অপসারণের বিষয়টি সরকারের কোনও এখতিয়ারে নেই। এটি সম্পূর্ণ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত।’

বৃহস্পতিবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে মাহবুবে আলমও জানিয়েছিলেন, ‘ভাস্কর্য সরানো হচ্ছে প্রধান বিচারপতির নির্দেশেই।’ শুক্রবার আলাপকালে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে চারটায় প্রধান বিচারপতি ফুলকোর্ট মিটিং করেছেন। সেখানে জজরা ভাস্কর্য সরানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। এর আগে দুপুরে আমিসহ সিনিয়র কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে প্রধান বিচারপতি কথা বলেন। ওই সময় তিনি নিজেও বলেছেন, গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এটি সরিয়ে ফেলাই ভালো। এটি এমন স্থানে রাখা উচিত, যেন কোনও প্রশ্ন না ওঠে।’

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর ভাস্কর মৃণাল হকের নেতৃত্বে ১৩ জন কর্মীসহ মোট ২০ জন শ্রমিক ভাস্কর্যটির ভিত ভাঙার কাজ শুরু হয়। ভোর পাঁচটার দিকে ঢাকা মেট্রো ন-১৬-১৫০৪ নম্বরের পিকআপ ভ্যানে করে হাইকোর্টের অ্যানেক্স ভবনের ভেতর পানির পাম্পের পাশে ভাস্কর্যটি রাখা হয়।

যদিও এদিন রাতেও আলোচনা ছিল, অ্যানেক্স ভবনের সামনে ভাস্কর্য পুনঃস্থাপন করা হবে।  সে মতে প্রস্তুতিও চলছিল। যদিও শুক্রবার রাতে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এখনও সেখানে ঢালাইয়ের কাজ চলছে। ওই স্থানটি শুকালেই বোঝা যাবে।

একটি গোয়েন্দাসংস্থা সূত্র জানায়, ইতোমধ্যেই ভাস্কর্য পুনঃস্থাপন করতে সরকারের ওপর-মহলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে দু’টি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অন্তত রবিবারের আগে ভাস্কর্য বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হচ্ছে না।

এদিকে ভাস্কর্য পুনঃস্থাপন না করতে হেফাজতে ইসলাম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। সংগঠনটির মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘গত রাতে গ্রিক দেবীকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে অপসারণের কোনও কোনও খবরে আমরা দেখলাম, অপসারিত থেমিসকে নাকি আদালতের এনেক্স ভবনের সামনে স্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে সব মহলকে স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, এই গ্রিক প্রতীক, যেটা আমাদের দেশে একটা আবর্জনার মতোই, সেটাকে চিরতরে পরিত্যাগ করতে হবে। এই ভাস্কর্য জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্থাপিত হয়েছিল। এই ভাস্কর্যকে বাংলাদেশের কোথাও  স্থান দেওয়া যাবে না।’

অন্যদিকে ভাস্কর্য রক্ষায় আন্দোলনে নেমেছে গণজাগরণমঞ্চসহ কয়েকটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের শেষ দিকে গ্রিক দেবী থেমিসের ভাস্কর্যটি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়। এরপর প্রায় দুই মাস এ বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কোনও মত প্রকাশ করা না হলেও ফেব্রুয়ারিতে মুখ খোলেন হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফী। এক বিবৃতিতে তিনি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্যটি অপসারণের দাবি জানান।

এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের সবগুলো ধর্মভিত্তিক সংগঠন ভাস্কর্যটি সরানোর দাবিতে আন্দোলন করছিল। হেফাজতের ঘোষণা ছিল, অপসারণ করা না হলে শাপলা চত্বরে আবারও সমাবেশ করবে তারা।

এরই ধারাবাহিকতায় গত গত ১১ এপ্রিল গণভবনে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সরকারি স্বীকৃতি ঘোষণার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই প্রশ্ন তোলেন গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য নিয়ে। সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে এই গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য থাকা উচিত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকবার প্রশ্ন তোলেন ভাস্কর্যের বাস্তবতা নিয়ে। তার প্রশ্ন, গ্রিক দেবীর গায়ে শাড়ি কেন?

বৃহস্পতিবার সকালেও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন রমজানের আগেই ভাস্কর্য সরানো আহ্বান জানায়। এর আগে ইসলামী ঐক্যজোট হরতালের ঘোষণা দেয়, রমজানের আগে গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য না সরালে তারা কঠোর কর্মসূচি দেবে। অব্যাহত হুমকি আসে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক রাজনৈতিক দল, ওলামা লীগসহ সুন্নিপন্থী একাধিক সংগঠনের পক্ষ থেকে। যদিও ভাস্কর্য রক্ষার দাবিতে দেশের প্রগতিশীলদের একটি অংশ বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে আসছিল।

/এমএনএইচ/

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম