জিনিসপত্রের দাম বাড়া-কমার বিষয়টাকেই বাজেট বলে ধরে নেন সাধারণ মানুষ। কোন কোন পণ্যের দাম বাড়লো আর কোন কোন পণ্যের কমলো তা নিয়েই মূল আলোচনার ঘুরপাক খায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে। বাজেট ঘোষণায় কাঁচা বাজারে দৃশ্যত তেমন কোনও প্রভাব না পড়লেও সেখানেও বাদ যায়নি এই আলোচনা। কাঁচা বাজারে বাজেটের প্রভাব না পড়লেও অন্যান্য জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির কারণে খুচরা ব্যবসায় লোকসান বাড়ে বলে জানান বিক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার (১ জুন) বাজেট ঘোষণার পর রাজধানীর কাওরান বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় বাজেট নিয়ে তাদের ভাবনা। গত ১৭ বছর ধরে কাওরান বাজারে শাকসবজির খুচরা ব্যবসা করছেন নুরুল ইসলাম। বাজেট ঘোষণার পর কাঁচা বাজারের পরিস্থিতি কেমন হয় জানতে চাইলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বাজেট নিয়ে এত কিছু ভাবি না। সরকার সরকারের কাজ করে, আমরা আমাদের কাজ করি। তবে বাজেট ঘোষণা করলেও কাঁচা জিনিসের দাম খুব একটা বাড়ে না। বরং অন্য সময় বেশি বাড়ে।’
তিনি কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়ে আরও বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমি একটি প্রশ্ন করবো, দয়া করে সরকারের কাছে জিজ্ঞাসা করবেন। বছরে চারবার জিনিসের দাম কেন বাড়ে? চার মাস পরপরই নিয়ম করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। এটা বাড়ায় কারা?’
জুয়েল নামে এক সবজি বিক্রেতা বলেন, ‘ভাই বাজেট বুঝি না। খাই-দাই, ঘুমাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘কাঁচা তরকারির দাম বাড়ে যখন বৃষ্টি হয়, কারণ তখন সবজি পচে যায়। যেমন, মরিচের দাম বৃষ্টির সময় অনেক বাড়ে। আবার পেয়াজ, রসুনের দামও বাড়ে। কিন্তু আলু, বেগুন, পটল, এসব তরকারিতে দাম খুব বেশি বাড়ে না। এগুলোর দাম বাড়ে যখন চাহিদা বেশি থাকে এবং আমদানি কম হয় তখন।’
তার দোকানে সবজি কিনতে আসা ফজলুল করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে তা অনেক উচ্চাভিলাষী। সরকার ইচ্ছামতো বাজেট ঘোষণা করে। জিনিসপত্রের দাম কমানোর বালাই নেই, বরং বাড়ায়।’ ব্যাংকে সঞ্চয় রাখলে তার ওপর অতিরিক্ত সুদ বসানোর সমালোচনা করেন তিনি। বাজেটে কাঁচা বাজারে খুব একটা পরিবর্তন চোখে না পড়লেও মশলার দামে বেশ তারতম্য ঘটে বলেও জানান এই ক্রেতা।
ভাই ভাই স্টোর নামে এক মসলার দোকানের বিক্রেতা মাসুদ রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিত্য পণ্যে তো দাম কম-বেশি হয় না। তবে বেশ কয়েকমাস আগে থেকেই দেখছি মসলায় দাম বাড়ছে। শুনেছি বাজেটের পরে আরও বাড়বে। কিন্তু বাজেট তো মাত্র ঘোষণা হলো। এর প্রভাব পড়তে পড়তে এখনও অন্তত দুই মাস লাগবে। তবে জিনিসের দাম বাড়লে ব্যবসা খুব খারাপ যায়। সাধারণ ক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষতির মুখে পড়ে। লাভবান হয় পাইকারি ব্যবসায়ীরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাজেট হলেই শুনি সিগারেটের দাম বেড়েছে, ইলেক্ট্রনিক্সের জিনিসের দাম বেড়েছে। কিন্তু সিগারেটের দাম বাড়ালেও ইলেক্ট্রনিক্সের দাম কমানো উচিত। কারণ দেশে এখনও খুব ভালো ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য তৈরি হয় না। আমদানি করতে হয়, ফলে ওইসব পণ্যে দাম কম রাখা উচিত।’
ছবি: নাসিরুল ইসলাম।
/আরএআর/এফএস/
আরও পড়ুন-
বাজেটে ১২ চ্যালেঞ্জ








