রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় যুবলীগ নেতা হত্যাকাণ্ডের জেরে পাহাড়িদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন। একইসঙ্গে তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ দাবি জানায়। এতে বলা হয়েছে, লংগদু উপেজলা সদরসহ টিনটিলা, বটতলা, বাট্ট্যাপাড়া, কাট্টলতলা, মানিকবিছড়া, লংগদ বড়াদম গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক পাহাড়িদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পাহাড়িদের গ্রামে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তদের এ হামলার ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন গভীরভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১ জুন) লংগদু উপজেলার সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের লাশ দীঘিনালার চারমাইল এলাকায় পাওয়া যায়। স্থানীয় বাঙালিরা এই ঘটনার জন্য পাহাড়ের আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে দায়ী করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার (২ জুন) সকালে নয়নের লাশ নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরে আসার পথে পাহাড়িদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় শতাধিক বাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
কমিশন নুরুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছে। তারা জানায়, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি সাম্প্রায়িক গোষ্ঠী পাহাড়িদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়ে একথাই আরেকবার প্রমাণ করলো যে, তারা দেশের সংবিধান বা প্রচলিত আইন সম্মান করছে না। সেইসঙ্গে ক্ষমতাবানদের মদদপুষ্ট এই গোষ্ঠী আইনের ঊর্ধ্বে থেকে বরাবার পাহাড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। এ ধরনের ঘটনা পাহাড় এবং সমগ্র দেশের শান্তির বিপক্ষে। এ হামলার সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল তা নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।
/এসটি/
আরও পড়ুন-
লংগদুতে হামলার ঘটনায় মামলা: আসামি তিন শতাধিক, আটক ৭
‘বিশ্বাস ছিল কেউ ক্ষতি করবে না’
যুবলীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনায় লংগদুতে পাহাড়িদের বাড়িঘরে আগুন








