চিকিৎসকরা আক্রান্ত হলে কেউ তাদের পাশে থাকে না, তাই এখন থেকে দেশের যে কোনও জায়গায় যে হাসপাতাল এবং প্রাইভেট চেম্বার আক্রান্ত হবে সেই হাসপাতাল এবং চেম্বার বন্ধ করে দেওয়া হবে, চিকিৎসকদের অধিকার আদায়ের জন্য প্রয়োজনে রাস্তায় নামা হবে। একইসঙ্গে চিকিৎসক নেতাদের দাবি দাওয়া মানা না হলে ঈদের পর তারা কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন।
মঙ্গলবার ৬ জুন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এসব কথা জানান বিএমএ নেতারা।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর গ্রিনরোডে অবস্থিত সেন্ট্রাল হাসপাতালে ‘ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর’ অভিযোগে সেন্ট্রাল হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা এবং সেখানকার চিকিৎসকদের মারধরের প্রতিবাদে বিএমএ দেশজুড়ে চিকিৎসকদের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত বিএমএ’র সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বলেন আমরা আশা করছি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আমাদের ডেকে আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন, আমাদের ন্যায্য দাবি তিনি শুনবেন এবং তা সমাধানে আশ্বাস দেবেন। কারণ, সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকরা রোগীদের সেবা দেন অথচ তারা দেশের নানাস্থানে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
তিনি বিএমএ’র আন্দোলন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে জানিয়ে বলেন, ইতোমধ্যেই আন্দোলনকে বানচাল করার জন্য ভেতর থেকে কেউ কেউ চেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু কী করলে কী করতে হবে সে বিষয়েও আমরা জানি। এই আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে যাবে এবং সেজন্য তিনি চিকিৎসকদের প্রস্তুত থাকারও আহ্ববান জানান।
অপরদিকে, বিএমএর মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী সেন্ট্রাল হাসপাতালের নাম উল্লেখ করে বলেন, যে হাসপাতাল চিকিৎসকদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, চিকিৎসকদের সঙ্গে বেঈমানি করেন তাদেরকে বয়কট করুন। তিনি সেন্ট্রাল হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, সেন্ট্রাল হাসপাতালে যারা কর্মরত রয়েছেন তারা কী ঢাকা শহরে আর কোথাও বসতে পারেন না?
তিনি বলেন, দেশের কোনও থানায় যদি ওসি, ইউএনও কিংবা কোনও ম্যাজিস্ট্রেটের গায়ে কেউ হাত তুলতো তাহলে দেশের অবস্থা অন্যরকম হতো। কিন্তু আমরা সাদা এপ্রোন পরি বলে এখনও এ ঘটনার বিচার হয়নি। কিন্তু, চিকিৎসকদের দুর্বল ভাবলে সবাই ভুল করবে। আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিয়ে দাবি আদায় করবো।
আগামী ১৮ জুন সকাল ৮ টা থেকে ১৯ জুন সকাল ৮ পর্যন্ত চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ থাকার ঘোষণা দিয়ে ইহতেশামুল হক বলেন, এখন থেকে যে হাসপাতাল এবং প্রাইভেট চেম্বার আক্রান্ত হবে সেই হাসপাতাল এবং চেম্বার বন্ধ করে দেওয়া হবে, চিকিৎসকদের অধিকার আদায়ের জন্য প্রয়োজনে রাস্তায় নামা হবে।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত অন্য চিকিৎসক নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নানা জায়গায় চিকিৎসকরা আক্রান্ত হচ্ছেন, অথচ তাদের পাশে সাংবাদিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নেই, টেলিভিশনে গিয়ে যারা টকশো করেন সেই বুদ্ধিজীবীরাও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কথা বলেন। কিন্তু আমরা মানুষের সেবা দিতে চাই, বারবার মার খেতে চাই না। আর সেন্ট্রাল হাসপাতালে যারা চিকিৎসকদের গায়ে হাত তুলেছেন, তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই।
/জেএ/টিএন/








