সরকারি গুদামে চালের মজুদ নিয়ে সরকারের তথ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে জাতীয় পর্টির (জাপা) সংসদ সদস্য শওকত চৌধুরী অভিযোগ করেন, ‘সরকার চাল নিয়ে ফাঁকা বুলি আওড়াচ্ছে।’
রবিবার জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ অভিযোগ করেন।
শওকত চৌধুরী বলেন, ‘ভরা মৌসুমে চালের দাম দ্বিগুণ (ডাবল)। পরে কী হবে জানি না। এখন চালের দাম দ্বিগুণ হলো কেন? এটা সমস্যা। দেখা দরকার, কীরকম মজুদ আছে? মজুদই যদি থাকে দাম দ্বিগুণ হবে কেন। আমার মনে হয় মজুদ নেই, এগুলো ফাঁকা বুলি।’
বাজেট বরাদ্দ সুষম বণ্টন হয় না অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এতো টাকার বাজেটে ভালো কাজ হচ্ছে না। কিছু মেগা প্রজেক্ট হচ্ছে। কিন্তু সারাদেশে সুষমভাবে বাজেটের অর্থ ব্যয় হয় না। আমরা যদি মনে করি, সারাজীবন ক্ষমতায় থাকবো, সেটা সম্ভব না। ভালো কাজই বেঁচে থাকবে। রংপুর বিভাগে মেগা প্রজেক্ট নেই। সুষম বণ্টন চাই। চার লাখ টাকার বাজেট। আমার ভাগেতো ১০০ কোটি বা অন্তত ৫০ কোটি টাকাতো পড়ে।’
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা তুলে ধরে শওকত চৌধুরী বলেন, ‘কোন জিনিসের দাম বাড়েনি সেটা বলেন। ৯০ ভাগ লোক সরকারের বিপক্ষে চলে গেছে। ঢাকায় ১৮টি আসনের একটাও পাবেন কিনা সন্দেহ আছে। চাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর চেষ্টা করেন। ফাঁকা বুলি মাইরেন না, বহুত মারছেন। মিথ্যা কথা বলবেন না।’
সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা পিচ্ছিল জিনিস। কোথায় সুষম বণ্টন? যদি এবসলিউট সিট থাকে সংসদে, রংপুর বিভাগে আছে ৩৩টি সিট। রংপুর বিভাগে টাকা নেই, বাজেট নেই। আমরা এখন মফিজ নেই। আমাদের চাল ঢাকায় আসে। তারপর ঢাকার মানুষ কেনে।’
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে নিজ দলের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যতো বৈষম্য করুক, আমরা ঝগড়া করবো না। ক্ষমতা বড় পিচ্ছিল জিনিস। পিচলাইতে সময় লাগে না। আমরা দেখায়া দেব, এই আপনাদের সমস্যা। মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিতে হবে। আমাদের সঙ্গে রাখবেন। জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে বেঈমানি করেনি।’
নিজের এলাকায় বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কথা তুলে ধরে নীলফামারী-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘জনগণ মনে করে সরকার আমাদের টাকা দিয়েছে, আমরা সেই টাকা মেরে খাই। মন্ত্রীরা বলেন টাকা দেবেন কিন্তু দেন না। আমাদের বেইজ্জত করার অধিকার কি তাদের আছে? আমরা জুতা খাবো আর উনারা ফুলের মালা পরবেন। চুরি বন্ধ করতে হবে। সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।’
/ইএইচএস/এসএনএইচ/








